1. news@banshkhalisanglap.com : বাঁশখালী সংলাপ : বাঁশখালী সংলাপ
  2. info@www.banshkhalisanglap.com : বাঁশখালী সংলাপ :
মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাছবাহী পিকআপ-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই যাত্রীর, আহত ২ বাঁশখালী রুটে ঈদফেরত যাত্রীদের ‘পকেট কাটতে’ গিয়ে ধরা, চার পরিবহনে জরিমানা বাঁশখালীতে মাদকাসক্ত ছেলেকে আইনের হাতে তুলে দিলেন মা: ভ্রাম্যমাণ আদালতের ৬ মাসের কারাদণ্ড বাঁশখালীতে পিকআপ-সিএনজির সংঘর্ষ, কর্মস্থলে ফেরার পথে প্রাণ গেল যুবকের শাহ আমানত দাখিল মাদরাসা প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন বঙ্গোপসাগরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, মাছভর্তি নৌযান আটক আড়াই লাখ জরিমানা ফুটবল খেলতে গিয়েই ট্র্যাজেডি, লবণ মাঠের গর্তে ডুবে প্রাণ গেল শিশু আদিলের বাঁশখালী রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে পুলিশের অভিযান, যাত্রীদের টাকা ফেরত PinUp официальный сайт казино | Играть в казино онлайн в Казахстане Пинап казино официальный сайт зеркало — играть в казино онлайн из Казахстана

উপজেলা হাসপাতালে সাপেকাটা চিকিৎসা কর্নার জরুরি: এন্টিভেনম পৌঁছাক মানুষের দুয়ারে

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে সাপের কামড় দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিরাজ করছে। ধানক্ষেত, খামার, বাগান কিংবা বসতভিটায় কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বহু মানুষ সাপের দংশনের শিকার হচ্ছেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য- এখনও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পান না। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গেলেও দেখা যায়, সাপের বিষ প্রতিষেধক এন্টিভেনম মজুত নেই। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে রোগীকে রেফার করা হয় জেলা বা বিভাগীয় হাসপাতালে। ততক্ষণে অমূল্য সময় নষ্ট হয়ে যায়, আর বহু রোগীর প্রাণ মাঝপথেই ঝরে পড়ে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, সাপের কামড়ের পর প্রথম ৩০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যে এন্টিভেনম প্রয়োগ করলে তা সবচেয়ে কার্যকর। এই সময়সীমার মধ্যে প্রতিষেধক না পেলে বিষ দ্রুত স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে, রোগী মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। কিন্তু বাস্তবতায় গ্রামীণ সড়কের দুরবস্থা, যানবাহনের সীমাবদ্ধতা ও আর্থিক অসুবিধা- সব মিলিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিরা জেলা শহরে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ যেন এক নির্মম ‘বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু’, যা সভ্য সমাজে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

প্রশ্ন উঠছে- যেখানে সাপের কামড়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি, সেখানে কেন উপজেলা হাসপাতালে এন্টিভেনম থাকবে না? গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপে কামড়ে আক্রান্ত হন, এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্তের ৯৫ শতাংশ ঘটনা ঘটে গ্রামীণ এলাকায়। অর্থাৎ ঝুঁকি যেখানে বেশি, চিকিৎসার ঘাটতিও সেখানেই প্রকট। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে সাপের উপদ্রব তুলনামূলকভাবে সীমিত, অথচ জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতালেই এন্টিভেনম সংরক্ষিত থাকে। এটি নিঃসন্দেহে এক অযৌক্তিক বৈষম্য।

আরও একটি বড় সমস্যা হলো- এন্টিভেনমের ব্যয়বহুলতা ও প্রাপ্যতা। বর্তমানে বাজারে একটি ভায়ালের দাম প্রায় ১৪শত থেকে ১৫শত টাকা, তবে সরকারি ক্রয় ও চিকিৎসা সেবার খরচ বিবেচনায় প্রতিটি ইনজেকশনের ব্যয় ১০ হাজার টাকারও বেশি হতে পারে। একজন রোগীকে সেরে তুলতে একাধিক ভায়াল প্রয়োজন হয়। প্রান্তিক মানুষের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবে এন্টিভেনম সহজলভ্য ও সুলভ করা এখন সময়ের দাবি।

এ অবস্থায় করণীয় কী? প্রথমত, প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করে সময়মতো এন্টিভেনম প্রয়োগ করতে পারেন। তৃতীয়ত, উপজেলা হাসপাতালে বিশেষ সাপেকাটা চিকিৎসা কর্নার চালু করা যেতে পারে, যেখানে জরুরি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। চতুর্থত, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে- যাতে কেউ আর ওঝা-বৈদ্যের কাছে না গিয়ে সরাসরি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন।

প্রতিটি প্রাণই রাষ্ট্রের জন্য অমূল্য। প্রতিবছর হাজারো মানুষ সাপের কামড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন, অথচ এই মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। শুধু সময়মতো এন্টিভেনম প্রয়োগই পারে অগণিত প্রাণ বাঁচাতে। তাই এখনই সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। উপজেলা হাসপাতালে এন্টিভেনম রাখতে হবে, প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে হবে এবং বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মিছিল থামাতেই হবে।

লেখক-
শিব্বির আহমেদ রানা
(লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী)
ই-মেইল: shibbirahmedctg1990@gmail.com

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট