বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মুখোশের আড়ালে অপসাংবাদিকতা: হারিয়ে যাচ্ছে জনআস্থা বৃদ্ধা মাকে নির্যাতন: বাঁশখালীতে মাদকাসক্ত ছেলের ঠাঁই হলো শ্রীঘরে, গুঁড়িয়ে দিল জুয়ার আসর প্রকাশ্যে মাদক সেবনে হাতেনাতে ধরা যুবক, শেষ ঠিকানা কারাগার রামদাস মুন্সি হাটের উন্নয়নকাজ সরেজমিনে দেখলেন ইউএনও বাঁশখালী পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে বাঁশখালীর চার কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা বাঁশখালী ইকোপার্ক: ঝুলন্ত সেতু, পাহাড় আর লেক—অযত্নে হারাচ্ছে সৌন্দর্য রাষ্ট্রীয় সফরে চট্টগ্রামে ড. জাকারিয়াকে ‘আমার গ্রাম’-এর শুভেচ্ছা বাঁশখালীতে মোবাইল কোর্টের অভিযানে দুই মাদকসেবী আটক, ৬ মাসের কারাদণ্ড মাদক সেবনের দায়ে কালীপুরের এক যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড বাঁশখালী থেকে ৯ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলকে ফুলেল সংবর্ধনা

মুখোশের আড়ালে অপসাংবাদিকতা: হারিয়ে যাচ্ছে জনআস্থা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এটি কেবল একটি পেশা নয়, বরং গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একজন প্রকৃত সাংবাদিক সমাজের চোখ, রাষ্ট্রের বিবেক এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। তাই সাংবাদিকতার শক্তি ক্ষমতার প্রদর্শনে নয়; সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বার্থ রক্ষায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয়কে পেশাগত দায়িত্বের পরিবর্তে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। কোথাও অর্থ আদায়ের অভিযোগ, কোথাও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি, কোথাও যাচাইবিহীন তথ্য প্রকাশ করে মানহানি, আবার কোথাও আনভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ পরিচালনা করে প্রশাসনিক ভাষা ও ভঙ্গিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা মামলার হুমকি। মূলত এসব আচরণ সাংবাদিকতার সঙ্গে নয়, অপসাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত হলো সত্যতা (Truth), দ্বিতীয় শর্ত তথ্য যাচাই (Verification) এবং তৃতীয় শর্ত জবাবদিহিতা (Accountability)। কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তার উৎস যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং জনস্বার্থের সঙ্গে তার সম্পর্ক মূল্যায়ন- এসবই পেশাদার সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তি, ভয় দেখানো বা আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা শুধু অনৈতিক নয়, বরং তা আইনের শাসনেরও পরিপন্থী।

আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সাংবাদিকতার নীতিমালাগুলো একই বার্তা দেয়। Society of Professional Journalists-এর বহুল স্বীকৃত Code of Ethics চারটি মৌলিক নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে- Seek Truth and Report It, Minimize Harm, Act Independently, এবং Be Accountable and Transparent। অর্থাৎ একজন সাংবাদিক সত্য অনুসন্ধান করবেন, অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি এড়াবেন, ব্যক্তিগত বা আর্থিক স্বার্থ থেকে স্বাধীন থাকবেন এবং নিজের কাজের জন্য জবাবদিহি করবেন। এই নীতিগুলোই বিশ্বজুড়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন অপরিহার্য, তেমনি সেই স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দায়িত্ববোধ। Reporters Without Borders প্রতি বছর প্রকাশিত World Press Freedom Index-এ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, আইনগত পরিবেশ, পেশাগত মান এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতাকে মূল্যায়ন করা হয়। এর মূল শিক্ষা একটাই- স্বাধীনতা ও দায়িত্ব একে অপরের পরিপূরক।

আবার Edelman-এর Trust Barometer দীর্ঘদিন ধরেই দেখিয়ে আসছে, কোনো প্রতিষ্ঠান বা পেশার সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনআস্থা। সেই আস্থা একদিনে তৈরি হয় না; গড়ে ওঠে সততা, স্বচ্ছতা, নির্ভুল তথ্য এবং নৈতিক আচরণের মাধ্যমে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই।আইনের দৃষ্টিতেও কেউ সাংবাদিক হলেই আইনের ঊর্ধ্বে চলে যান না। সংবিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে অন্যের সম্মান, ব্যক্তিগত অধিকার এবং আইনের শাসন রক্ষার বাধ্যবাধকতাও নিশ্চিত করেছে। তাই সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অসত্য তথ্য প্রচার, মানহানি, চাঁদাবাজি বা ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় তখনই, যখন কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পুরো সাংবাদিক সমাজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। হাজারো সৎ, নিষ্ঠাবান ও সাহসী সাংবাদিক প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনস্বার্থে কাজ করছেন। তাঁদের অবদানকে আড়াল করে দেয় অল্প কয়েকজনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি পেশা নয়; ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার। আজ প্রয়োজন সাংবাদিকতার নামে প্রভাব বিস্তার নয়, বরং নৈতিক সাংবাদিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। প্রয়োজন তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি, পেশাগত প্রশিক্ষণ, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ। সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে যেমন কঠোর অবস্থান নিতে হবে, তেমনি প্রকৃত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সম্মানও নিশ্চিত করতে হবে। ইতিহাসের সেই প্রথম খসড়া যেন সত্য, সততা ও দায়িত্ববোধের কালি দিয়ে লেখা হয়- এটাই সমাজের প্রত্যাশা। কারণ সাংবাদিকতার আসল শক্তি ভয় দেখানো নয়; সত্যকে নির্ভয়ে তুলে ধরা।

লেখক: তৌহিদ-উল বারী
তরুণ কলাম লেখক

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews