
বাঁশখালী সংলাপ::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জলদী পৌরসভা এলাকায় একটি ফার্মেসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ ও বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফার্মেসি পরিচালনাকারী ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোবাবর (৭ জুন) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন। অভিযানে বাঁশখালী থানা পুলিশ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, জলদী পৌরসভা এলাকার একটি ফার্মেসিতে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন ওষুধ অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রি করা হচ্ছে– এমন তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালায়। তল্লাশিকালে ফার্মেসিটিতে কোনো বৈধ সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি। এ সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য সরবরাহকৃত বিভিন্ন ওষুধ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও জব্দ করা হয়।
ফার্মেসি পরিচালনাকারী দক্ষিণ জলদী বিশ্বাসপাড়া এলাকার মৃত সুধাংশু সুবিমল বিশ্বাসের ছেলে প্রণব কান্তি বিশ্বাস (৬০) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সরকারি ওষুধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম নগরের হাজারী গলি থেকে স্বল্পমূল্যে এসব ওষুধ সংগ্রহ করেছিলেন এবং সেগুলো ফার্মেসিতে সংরক্ষণ করেছিলেন।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, উদ্ধার হওয়া সরকারি ওষুধ স্থানীয় কোনো সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সরানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হয়। এ সময় ভিডিও রেকর্ডকৃত বক্তব্যে প্রণব কান্তি বিশ্বাস দাবি করেন, তিনি বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক কিংবা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এসব ওষুধ সংগ্রহ করেননি। বরং চট্টগ্রাম নগরের হাজারী গলি থেকেই ওষুধগুলো সংগ্রহ করেছেন বলে জানান।
অভিযানে উপস্থিত বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. সাইফুল আমিন ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. সৈয়দ আকবর উদ্ধারকৃত ওষুধগুলো যাচাই-বাছাই করেন এবং প্রয়োজনীয় মতামত দেন। পরে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ অপসারণ করা হয়। জব্দ করা সরকারি ওষুধগুলো পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, ‘সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য বিনা মূল্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সরবরাহ করা ওষুধ বাজারে বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার রোধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি ওষুধের অবৈধ বেচাকেনা কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুদ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. সাইফুল আমিন বলেন, ‘সরকারি ওষুধ জনগণের জন্য বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়। এসব ওষুধ অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রণব কান্তি বিশ্বাসকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি ওষুধের অবৈধ বেচাকেনা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করে। অন্যদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।