1. news@banshkhalisanglap.com : বাঁশখালী সংলাপ : বাঁশখালী সংলাপ
  2. info@www.banshkhalisanglap.com : বাঁশখালী সংলাপ :
মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাছবাহী পিকআপ-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই যাত্রীর, আহত ২ বাঁশখালী রুটে ঈদফেরত যাত্রীদের ‘পকেট কাটতে’ গিয়ে ধরা, চার পরিবহনে জরিমানা বাঁশখালীতে মাদকাসক্ত ছেলেকে আইনের হাতে তুলে দিলেন মা: ভ্রাম্যমাণ আদালতের ৬ মাসের কারাদণ্ড বাঁশখালীতে পিকআপ-সিএনজির সংঘর্ষ, কর্মস্থলে ফেরার পথে প্রাণ গেল যুবকের শাহ আমানত দাখিল মাদরাসা প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন বঙ্গোপসাগরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, মাছভর্তি নৌযান আটক আড়াই লাখ জরিমানা ফুটবল খেলতে গিয়েই ট্র্যাজেডি, লবণ মাঠের গর্তে ডুবে প্রাণ গেল শিশু আদিলের বাঁশখালী রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে পুলিশের অভিযান, যাত্রীদের টাকা ফেরত PinUp официальный сайт казино | Играть в казино онлайн в Казахстане Пинап казино официальный сайт зеркало — играть в казино онлайн из Казахстана

শিক্ষাব্যবস্থার হ য ব র ল নীতিতে বাড়ছে বেকারত্ব

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২১৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের বর্তমান সমাজে তরুণদের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্মসংস্থান। শিক্ষার দীর্ঘ যাত্রা শেষ করে যখন তারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চায়, তখনই সামনে আসে অদ্ভুত এক বাস্তবতা। বছরের পর বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, বিজনেস স্টাডিজ, সমাজবিজ্ঞান কিংবা জেনারেল শিক্ষা গ্রহণের পর দেখা যায় সবাই সমান তালে বিসিএস কিংবা ব্যাংকের পরীক্ষার দিকে ছুটছে। একেবারে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের শিক্ষার্থীরা একই সারিতে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। চার বছর ইঞ্জিনিয়ারিং করে বের হওয়া শিক্ষার্থী আর বাংলা কিংবা ভুগোল বিভাগ থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থী একই চাকরির পরীক্ষায় প্রতিযোগিতা করছে। ফলে শিক্ষার বিশেষায়িত চরিত্র সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ছে এবং শিক্ষাজীবনে অর্জিত জ্ঞান কার্যত কোনো কাজে লাগছে না।

উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হয় যে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যে জ্ঞান অর্জন করেন, তার বাস্তব প্রয়োগের সুযোগও পান তিনি। আমরা উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলানোর গালগল্প ঠিকই করি কিন্তু বাস্তব প্রয়োগ কিছু দেখি না।একজন ডাক্তার হবেন চিকিৎসক, একজন কৃষিবিদ কৃষি খাতে কাজ করবেন, একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অবদান রাখবেন। কিন্তু বাংলাদেশে একজন ডাক্তার ছাড়া অন্য কারো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত নয়। ইঞ্জিনিয়াররা শেষ পর্যন্ত হয় বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, নয়তো ব্যাংকের চাকরির দিকে ঝুঁকছে। কৃষি শিক্ষার্থীকে কৃষি খাতেই নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি নেই। সমাজবিজ্ঞান পড়ুয়াদের জন্যও সমাজবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে সঠিক সুযোগ তৈরি হয়নি। সবকিছু যেন এক অদ্ভুত হ য ব র ল অবস্থায় আটকে আছি আমরা।

দেখা যাচ্ছে, চার বছরের কষ্টসাধ্য পড়াশোনা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা শেষে তরুণরা বাস্তবে এমন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে যেখানে তাদের পূর্বের পড়াশোনার কোনো গুরুত্বই নেই। পদার্থবিদ্যার জটিল সূত্র কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কঠিন পাঠ্যবই মুখস্থ করার কোনো প্রয়োজন থাকছে না, বরং বিসিএসের কোচিং সেন্টারে গিয়ে ইতিহাস, ভূগোল কিংবা সাধারণ জ্ঞান মুখস্থ করতে হচ্ছে। সবাই যেনো একই পালের গোদা। এতে করে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছেই, সাথে শিক্ষার্থীর মনোবলও ভেঙে পড়ছে। হারহামেশাই শুনি পড়ালেখা করে কিই বা করবো বেকার হওয়া ছাড়া.? চরম হতাশা নিয়েই বলতে হয়,এই প্রশ্নই এখনকার সময়ের বাস্তবতা।

কারণ খুজে দেখলে যা দেখি, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনার ঘাটতি। আমাদের এখনো যথেষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান নেই, যথেষ্ট গবেষণাভিত্তিক কেন্দ্র বা ল্যাবরেটরি নেই বললেই চলে। কৃষি, প্রকৌশল, সমাজবিজ্ঞান কিংবা অর্থনীতির শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারছে না। যদি কৃষি শিক্ষার্থীদের জন্য কৃষি গবেষণাগার বা প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি প্রতিষ্ঠান থাকত, তবে তারা সরাসরি সেখানে যুক্ত হয়ে কৃষিক্ষেত্রকে আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখতে পারত। একইভাবে, যদি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে একটি স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া থাকত, তবে তারা দেশের শিল্পায়নকে এগিয়ে নিতে পারত। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো কাঠামো নেই।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, একজন ইঞ্জিনিয়ার বা কৃষিবিদকে তাঁদের পড়াশোনার বাস্তব প্রয়োগ না করে নতুন করে বিসিএসের সিলেবাস নিয়ে শুরু করতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষা একটি অনিশ্চিত ও নিরাশার যাত্রায় পরিণত হচ্ছে। এ অবস্থায় তরুণরা হতাশ হচ্ছে, কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে, আবার কেউ কেউ শিক্ষার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ খাতে চাকরি নিয়ে কোনো রকমে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

এই অদ্ভুত বাস্তবতায় শিক্ষা ও চাকরির মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট যোগসূত্র তৈরি হয়নি। যে কারণে আমরা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় বুঝতেই পারিনা আমারর ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র কী হবে। চার বছর পড়াশোনার পরও আমাদের নতুন করে আবার একটি অনিশ্চিত প্রতিযোগিতার মাঠে নেমে পড়তে হচ্ছে। এই নীতির কারণে শুধু বেকারত্ব বাড়ছে না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নও ব্যাহত হচ্ছে। কারণ একজন ইঞ্জিনিয়ার তার প্রকৃত দক্ষতা প্রয়োগ করতে না পারলে শিল্পায়ন এগোবে কীভাবে..? একজন কৃষিবিদ যদি কৃষি গবেষণায় যুক্ত না হয়, তবে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটবে কীভাবে..?
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত ডিগ্রি বিতরণের একটি প্রক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। কার্যত কোনো ফল আকরা দেখি না চাকরী পরীক্ষা ছাড়া। শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার চেয়ে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এর ফলে দেশের জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়ছে।

সমাধানের পথ অবশ্যই আছে। সবচেয়ে আগে প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট নীতি, যেখানে প্রতিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত সেক্টরে চাকরি নিশ্চিত করা হবে। কৃষিবিদরা কৃষি খাতে, ইঞ্জিনিয়াররা শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে, অর্থনীতিবিদরা নীতিনির্ধারণ ও আর্থিক খাতে, সমাজবিজ্ঞানীরা সমাজ ও নীতি-গবেষণা খাতে কাজ করবেন এমন একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি দেশে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ল্যাবরেটরি ও শিল্প কারখানা বাড়াতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান সরাসরি প্রয়োগের সুযোগ পান। শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল বিসিএস বা ব্যাংকের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নয়। শিক্ষা তখনই অর্থবহ হয় যখন তা গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের বাস্তব উন্নয়নে কাজে লাগে। বাংলাদেশ যদি এই হ য ব র ল নিয়োগব্যবস্থা বন্ধ করে প্রতিটি খাতে নির্দিষ্ট বিভাগের লোক নিয়োগ নিশ্চিত করতে পারে, তবে শুধু বেকারত্বই কমবে না, বরং তরুণরা নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারবে। শিক্ষার মর্যাদা তখন প্রকৃত অর্থেই প্রতিষ্ঠিত হবে, আর তরুণ প্রজন্ম হতাশার বদলে স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাবে সামনে।

✍️ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
(শিক্ষার্থী: ইতিহাস বিভাগ,চট্টগ্রাম কলেজ)

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট