
নিজস্ব সংবাদদাতা::: ‘চট্টগ্রামের মানুষ আগে জান্নাতে যাবে, এরপর অন্য জেলার মানুষ যাবে’–সুন্নি ঘরানার বক্তা মাওলানা মুহাম্মদ আতাউল বারী আলকাদেরীর এমন একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বক্তব্যটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আতাউল বারীকে একটি মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওটির স্থান ও ধারণের সময় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওতে আতাউল বারী বলেন, ‘রাউজানের মানুষ আগে জান্নাতে যাবে। কারণ এই রাউজানের মধ্যে শতকরা ৯০ জন সুন্নি এবং শতকরা ৯০ জন আশেকে রাসুল। রাউজানের পরে রাঙ্গুনিয়া যাবে। তারপরে হাটহাজারী যাবে। তারপর বাঁশখালী যাবে। তারপরে আনোয়ারা যাবে। তারপরে পটিয়া যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে যেতে যেতে পুরো চট্টগ্রামবাসীকে আল্লাহ জান্নাত দেওয়ার পরে তারপর অন্য জেলার মানুষ যাবে। কারণ চট্টগ্রাম হচ্ছে সুন্নিয়তের ক্যান্টনমেন্ট। যেখানে শতকরা ৯০ জন সুন্নি এবং আশেকে রাসুল।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে ৭৩ দলের প্রসঙ্গ তুলে আতাউল বারী বলেন, ‘হাদিসে পাকের মধ্যে আছে, আমার নবী বলেন, কেয়ামতের আগে ৭৩টা দল হবে। এ ৭৩টা দলের মধ্যে ৭২ দল জাহান্নামে যাবে। একদল জান্নাতে যাবে। সেটা হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত।’ তিনি বলেন, ‘সুতরাং জান্নাতে যেতে চাইলে সুন্নি হয়ে যান। নামের আগে সুন্নি লাগায়ে দেন।’
এ ছাড়া আতাউল বারীর আরেকটি বক্তব্যের ভিডিও নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে। ওই বক্তব্যে তিনি কওমি ঘরানার অনুসারীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে বলেন, ‘কোনো ওহাবী মারা গেলে তাদের কবরে যদি ঘাস উঠে, ওই ঘাস খাওয়া গরু দিয়ে মেজবানি করালে মেজবান কখনও কবুল হবে না।’
পরে নিজের ফেসবুক পোস্টে বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আতাউল বারী লিখেন, ওয়াজের ময়দানে তাঁর মুখ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভুল বক্তব্য বের হয়েছে। এ জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও লজ্জিত। তাঁর বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি সবার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে আল্লাহর কাছে তওবা করে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক ও যাচাই করে কথা বলার তৌফিকের জন্য দোয়া চান। তিনি সবার কাছে তাঁকে ক্ষমা করে আগের মতো খেদমত করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
মাওলানা আতাউল বারী আলকাদেরী সুন্নি বা রেজভী ঘরানার স্থানীয় বক্তা ও সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা এলাকায়। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের রাউজানের উকিলপাড়া জামে মসজিদের খতিবের দায়িত্বে আছেন।