
নিজস্ব সংবাদদাতা::: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অভিবাসনকে কার্যকর অভিযোজন কৌশল হিসেবে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অংশগ্রহণমূলক ‘ফোরসাইট’ বিষয়ক দিনব্যাপী তৃতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বাঁশখালী উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (আইডিআরসি) এবং ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর সহযোগিতায় কর্মশালাটির আয়োজন করে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।
কর্মশালায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, এর ফলে জীবিকা ও জনজীবনে প্রভাব, অভ্যন্তরীণ ও বহির্মুখী অভিবাসনের ধরণ এবং ভবিষ্যৎ নীতিপথ নির্ধারণে ‘ফোরসাইট’ পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালা পরিচালনা করেন রামরুর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মাহমুদুল হাসান রকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক তাসনীম চৌধুরী ফাহিম এবং রামরুর স্ট্যাটিস্টিশিয়ান উসরীয়া আউয়াল উসরী।
এতে বাঁশখালী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শওকতুজ্জামান, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এনামুল করিম, সাংবাদিক কল্যাণ বড়ুয়া, শিব্বির আহমদ রানা ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, মসজিদের ইমাম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ইপসার কর্মী এবং উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রামরুর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অভিবাসনকে শুধু সংকট হিসেবে নয়, বরং অভিযোজনের একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখার সময় এসেছে। অংশগ্রহণমূলক ফোরসাইট পদ্ধতি ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ও সম্ভাব্য সুযোগ চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।’
দিনব্যাপী কর্মশালায় গ্রুপ ওয়ার্ক, সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির দৃশ্যপট বিশ্লেষণ, ঝুঁকি ও সুযোগ চিহ্নিতকরণ এবং নীতিগত সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, স্থানীয় বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অভিবাসনকে অভিযোজন কৌশল হিসেবে আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করছে।
কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে ভবিষ্যৎ গবেষণা ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।