
নিজস্ব প্রতিবেদক::: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১২ বছর বয়সী এক মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফয়েজ উল্লাহ ওরফে ফজুল্লাহ ডাকাত (৫৬) নামে এক ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীরখীল এলাকার বানু হোসেনের বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত একটি পুরোনো চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পরিবারের।
অভিযুক্ত ফয়েজ উল্লাহ একই এলাকার নোনাফের ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শিশুর মেঝচাচা মো. আহমদ উল্লাহ বলেন, ঘটনার সময় শিশুটির মা-বাবা সরল বাজার এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের টিন আনতে গিয়েছিলেন। এ সুযোগে ফয়েজ উল্লাহ বাড়ির পাশে খেলাধুলা করা শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যান। পরে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত একটি পুরোনো চায়ের দোকানে নিয়ে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কয়েকজন শিশু আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানায়। স্থানীয়রা এগিয়ে আসার আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
শিশুটির মা ইয়াছমিন আক্তার বলেন, ‘আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে ডেকে নিয়ে ফজুল্লাহ ডাকাত জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। ঘটনার পরের দিন বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করি। শুক্রবার সকালে মেয়েকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমি আমার মেয়ের ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।’
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা এতে রাজি হয়নি। মামলা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন শিশুটির মেঝচাচা।
আহমদ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা এ এলাকার সবচেয়ে অসহায় মানুষ। আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। মামলা করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা আমাদের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে শুক্রবার দুপুরে তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় শিশুটির মা ইয়াছমিন আক্তার বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলা করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আসামির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ায় পরিবারের পাশে রয়েছে পুলিশ।