রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাঁশখালীতে ৪শ পরিবারকে ত্রাণ দিলো বন্ধন লায়ন্স ক্লাব বাঁশখালীতে পানিবন্দি মানুষের পাশে ফায়ার সার্ভিসের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাঁশখালীতে দুই অবৈধ ট্রলিং বোট জব্দ, ট্রলিং জালসহ ৩৭ জেলে আটক টানা ছয় দিনের বন্যার ক্ষত কাটেনি, ফের ভারী বৃষ্টিতে নতুন শঙ্কায় বাঁশখালী বাঁশখালীতে দুর্গত মানুষের পাশে চট্টগ্রাম-ফেনী নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বাঁশখালী স্টুডেন্ট’স ফোরাম চবি’র উদ্যোগে দুই দিনে ৭০০ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ পৌর তহবিল থেকে প্রতি ওয়ার্ডে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দের দাবি সাবেক মেয়র তোফাইলের একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবকসহ বন্যার শুরু থেকেই ত্রাণ নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে ডা. আসিফুল হক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাঁশখালীতে নিহত শিশুর পরিবারকে দিলেন আর্থিক সহায়তা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন তিন জনপ্রিয় ইসলামি আলেম

টানা ছয় দিনের বন্যার ক্ষত কাটেনি, ফের ভারী বৃষ্টিতে নতুন শঙ্কায় বাঁশখালী

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

“ত্রাণের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার”

শিব্বির আহমদ রানা::: টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পানি অনেক এলাকায় কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কাটেনি। উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে এখনও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। এরই মধ্যে রবিবার (১২ জুলাই) সকাল থেকে আবারও অঝোর ধারায় বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

দক্ষিণ বাঁশখালীর ছনুয়া, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি, চাম্বল ও শীলকূপ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে হাজারো পরিবার এখনও পানিবন্দি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়নি। কোথাও কোথাও কোমর থেকে গলাসমান পানিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় এখনো সরকারি ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। একই চিত্র উত্তর বাঁশখালীর পুকুরিয়া, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, সাধনপুর, কালীপুর, বৈলছড়ি, কাথরিয়া ও জলদী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিশেষ করে বাহারছড়া ও কালীপুরের পশ্চিমাঞ্চলে এখনও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক দুর্গম এলাকায় সরকারি কিংবা বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা এখনো পৌঁছায়নি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় এখনও প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ বন্যাকবলিত। বন্যার পানিতে ৮ থেকে ১০ হাজারের বেশি বসতঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাঁচা ঘরের মাটির দেয়াল ধসে পড়ে পুরো ঘর ভেঙে গেছে।

প্রাথমিক হিসাবে কৃষিজ ফসল, ফসলি জমি, মাছের ঘের, পোলট্রি খামার ও গবাদিপশু মিলিয়ে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। পাশাপাশি বহু গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ছোট নৌকা বা ডিঙিই এখন একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকায় তীব্র সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। উপকূলীয় একাধিক এলাকায় টানা সাত থেকে আট দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বাঁশখালীর ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ বন্যা, যার ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে স্থানীয়দের একাংশ স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনা ও জলপ্রবাহে বাধাকে দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, উপকূলীয় এলাকার বেশ কয়েকটি স্লুইসগেট স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সময়মতো পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়েছে। মাছের ঘের রক্ষার স্বার্থে কোথাও কোথাও পানি আটকে রাখার অভিযোগও তুলেছেন তারা।

এ ছাড়া সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে পুরোনো খাল, ছড়া ও কালভার্ট দখল করে বসতবাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে না পেরে দীর্ঘসময় লোকালয়ে আটকে থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছনুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘গত দুই দিনে পানি কিছুটা নেমেছে। তবে রবিবার সকাল থেকে আবার ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। বর্তমানে ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। আবাখালীর একটি স্লুইসগেটে জাল বসিয়ে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। খবর পাওয়ার পর সেটি অপসারণ করা হয়েছে। ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডে বসতঘর ও কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
শেখেরখীল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামশুল আলম বলেন, ‘বৃষ্টি কিছুটা কমায় পানি নামতে শুরু করেছিল। কিন্তু আবার ভারী বর্ষণ হলে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল পুনরায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বসতঘর, মাছের ঘের ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।’
খানখানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘ইউনিয়নের ১, ২, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এখনও পানি রয়েছে। তিনটি স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন চলছে। সকাল থেকে নতুন করে বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আবার খারাপ হতে পারে। প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে কেউ নেই, অধিকাংশ পরিবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।’
সরল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তার বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ৯০০ পরিবার এখনও পানিবন্দি। প্রতিটি ওয়ার্ডেই বহু বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি সড়ক এখনও পানির নিচে রয়েছে। পশ্চিম কাহারঘোনা এলাকায় বেড়িবাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আবারও ভারী বর্ষণ হলে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মামুনুর রশীদ অভিযোগ করে বলেন, ‘৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৬ নম্বর ইলশা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে এখনও শতাধিক মানুষ অবস্থান করছেন। কিন্তু সেখানে এখনো কোনো সরকারি ত্রাণ পৌঁছেনি। আশপাশের অনেক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও ত্রাণ সহায়তা পাওয়া যায়নি।’ এ বিষয়ে জানতে বাহারছড়া ইউপির চেয়ারম্যান ইউনুস মুন্সিকে একাধিবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

বাঁশখালী উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) রেডিও অপারেটর মিঠু কুমার দাশ বলেন, ‘সকাল থেকে আবার ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে পারে।আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও অনেক মানুষ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন। আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।’

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews