
তৌহিদ-উল বারী (বার্তা সম্পাদক) বাঁশখালী সংলাপ::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার শুরু থেকেই মানবিক সহায়তা নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছেন ডা. আসিফুল হক। সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রম শুরুর আগেই তিনি নিজ উদ্যোগে একদল স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু করেন।
দেশের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই) ও সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত এ মানবিক কার্যক্রমের আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবারের কাছে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বন্যার পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর কাছে নৌকা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এসব ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত এলাকার মধ্যে রয়েছে পশ্চিম ছনুয়া, শেখেরখীল, সরল, পশ্চিম চাম্বলের মুন্সীখীল, কাথারিয়া, মানিক পাঠানপাড়া, চাপাছড়ি, বাহারছড়াসহ বাঁশখালীর বিভিন্ন বন্যাকবলিত জনপদ। প্রতিটি এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে।
ডা. আসিফুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। খাদ্য প্রস্তুত, প্যাকেটজাতকরণ, পরিবহন এবং দুর্গত মানুষের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় তারা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করছেন।
এ মানবিক উদ্যোগে সালমা আদিল ফাউন্ডেশন প্রায় ৫০ হাজার টাকার ত্রাণসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসী নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দিয়ে কার্যক্রমটি সচল রাখতে ভূমিকা রাখছেন।
ডা. আসিফুল হক বলেন, ‘বন্যার শুরু থেকেই আমরা অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আমাদের সঙ্গে একদল স্বেচ্ছাসেবী দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। প্রবাসী ভাইদের আন্তরিক সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। যতদিন তহবিলে অর্থ থাকবে, ততদিন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সকল সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাই– নিজ নিজ অবস্থান থেকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান। কোনো একটি সংগঠনের পক্ষে এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সবাই মিলে কাজ করলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার প্রথম দিক থেকেই ডা. আসিফুল হক ও তাঁর স্বেচ্ছাসেবী দল দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে রান্না করা খাবার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দিচ্ছেন। অনেক এলাকায় সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর আগেই তারা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের এ মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্যরা জানান, শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তাই নয়, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য দেশ-বিদেশের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা।