
তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী সংলাপ::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাঁশখালী স্টুডেন্ট’স ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সংগঠনটির উদ্যোগে টানা দুই দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক এ উদ্যোগের আওতায় দুই দিনে মোট প্রায় ৭০০টি বন্যাদুর্গত পরিবারের হাতে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির সদস্যরা শুক্রবার ও শনিবার কাথারিয়া, বাহারছড়া ও আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হাঁটুজল ও কোমরসমান পানি মাড়িয়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ঘরে ঘরে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা পরিবারগুলোর হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সার্বিক খোঁজখবরও নেন তারা।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনে প্রায় ২০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। দ্বিতীয় দিনে আরও ৫০০টির বেশি পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে দুই দিনের কার্যক্রমে মোট প্রায় ৭০০টি বন্যাদুর্গত পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে সংগঠনটি। পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন বাঁশখালী স্টুডেন্ট’স ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দু রব হলের ভিপি হাফেজ মুহাম্মদ বোরহান। এ সময় সংগঠনের সদস্য হালিম, সাইফুল, মিনহাজ, মাইনুদ্দিন, হাসান রায়েন মাহমুদ, রাব্বি, রাকিব, আব্দুল্লাহ তোহা, আনিস, মিসকাতসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
সংগঠনের সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ বোরহান বলেন, বাঁশখালীর অনেক মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাঁশখালীর শিক্ষার্থীরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। প্রয়োজন থাকা পর্যন্ত আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম চলমান থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করা দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের পাঠানো আমানত যথাযথভাবে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতার সঙ্গে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের এমন কঠিন সময়ে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও ব্যক্তি ও সংগঠন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে।