
তৌহিদ-উল বারী::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাঁশখালী স্টুডেন্ট’স ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সংগঠনটির উদ্যোগে শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুজল মাড়িয়ে দুর্গত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
সকাল থেকে দিনব্যাপী পরিচালিত এ ত্রাণ কার্যক্রমে সংগঠনের সদস্যরা পানিতে তলিয়ে যাওয়া বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে থাকা অসহায় পরিবারগুলোর হাতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ তুলে দিয়ে তাদের খোঁজখবরও নেন স্বেচ্ছাসেবীরা। শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দু রব হলের ভিপি হাফেজ মুহাম্মদ বোরহান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য হালিম, সাইফুল, মিনহাজ, মাইনুদ্দিন, হাসান রায়েন মাহমুদ, রাব্বি, রাকিব, আব্দুল্লাহ তোহা, আনিস, মিসকাতসহ অন্যান্য সদস্যরা। তারা নিজেদের উদ্যোগে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ত্রাণ বিতরণে অংশ নেন।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে প্রায় ২০০টি বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও দুর্গত পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনের সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ বোরহান বলেন, বাঁশখালীর অনেক মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাঁশখালীর শিক্ষার্থীরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম শুধু আজকের জন্য নয়, প্রয়োজন থাকা পর্যন্ত চলমান থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এই কার্যক্রমের খবর যেন মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেজন্য বাঁশখালীর স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর সহযোগিতা কামনা করছি। পাশাপাশি প্রবাসী, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। সবাই সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের এমন সময়ে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও ব্যক্তি ও সংগঠন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে।