বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাঁশখালীতে পারিবারিক কলহে বিদ্যুতের খুঁটিতে যুবক, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় উদ্ধার বাঁশখালীতে সাত্ত্বিক পূজা নির্বাচন কমিটি গঠন বায়তুল ইরফান আদর্শ মাদরাসায় বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নৈতিক চরিত্র গঠনে আলোচনা সভা সাত দিন পর দেশে ফিরল বিমানে মারা যাওয়া বাঁশখালীর প্রবাসী জসিমের মরদেহ বাঁশখালীর ৮৮ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগ, পুলিশের মতবিনিময় সভা শীলকূপ ইউনিয়নে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে চেয়ারম্যান রাশেদ নূরীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মা ইলিশ রক্ষায় বাঁশখালীতে নৈশ অভিযান: ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা বাঁশখালীতে ১৫ বছর ধরে দখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার সরকারি আলাওল কলেজের উন্নয়ন ও শিক্ষক সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস এমপির বাঁশখালীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান

প্রাণময় এক শিক্ষক, চিরস্মরণীয় এক মানুষ: হেড মাওলানা আরিফ মোহাম্মদ হাসান নূর

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪২ বার পড়া হয়েছে

২০০০ সাল। আমরা তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। একদিন হঠাৎ ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে প্রবেশ করলেন ইয়াং, পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত এক সুদর্শন যুবক। খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি, চোখেমুখে প্রাণোচ্ছল হাসি, আর নিজের একাডেমিক জীবনে সেরা ছাত্র হওয়ার আত্মবিশ্বাস—প্রথম দিনেই তিনি আমাদের মন জয় করে নিলেন। দরদমাখা শব্দচয়ন আর প্রাঞ্জল ভাষায় পুরো ক্লাসকে বিমোহিত করেছিলেন তিনি। সেই শুরু—পরবর্তী দুই বছর আমরা তাঁকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছি, আর ২০০৩ সালে এসএসসি দিয়ে বিদায় নেওয়ার সময় তাঁর স্নেহমাখা ছায়াও পেছনে ফেলে এসেছি।

তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী গুণাবলীর এক শিক্ষক। হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য আমাদের বারবার উৎসাহ দিতেন। শুধু পাঠদান নয়, চরিত্র গঠনেও ছিল তাঁর বিশেষ মনোযোগ। ছাত্রীদের জন্য কমন রুমে নামাজের আলাদা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং তাদের নামাজে উৎসাহিত করা ছিল তাঁর অন্যতম খেদমত। ছাত্রদের জন্য পাশের মসজিদে যোহরের নামাজে হাজিরা খাতা চালু করে উপস্থিতি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেন। ভালো ছাত্রদের আলাদাভাবে নামাজের প্রতি যত্নবান হতে বলতেন। সেই সময় যোহরের নামাজে শিক্ষক হিসেবে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন কেবল আজগর স্যার ও তিনি। প্রতিবাদী মনোভাব ছিল তাঁর আরেকটি উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য। হক কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন নির্ভীক। আত্মসম্মানবোধ ছিল আকাশসমান। এমপিওভুক্ত একটি হাইস্কুলে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে সাদাসিধে জীবনযাপন সহজ ছিল না। অন্য অনেক শিক্ষক যেখানে প্রাইভেট বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তিনি ছিলেন সে সবের বাইরে—স্বচ্ছ, সৎ ও আত্মমর্যাদাশীল।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর ও আন্তরিক। স্কুল থেকে বিদায়ের পরও সাবেক ছাত্রদের মনে রাখতেন, খোঁজখবর নিতেন। মতাদর্শের মিল ও ভালো ছাত্র হওয়ার সুবাদে হয়তো অনেকের মতো আমিও তাঁর বিশেষ স্নেহ পেয়েছি।

জীবনের এক পর্যায়ে শুনেছি, তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য মাঝে মাঝে ভেঙে পড়ত। তখন তিনি কিছুটা অস্থির হয়ে যেতেন, বেশি কথা বলতেন বা রেগে যেতেন। তবুও কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খারাপ হয়নি। অন্যায়ের সামনে তিনি কখনো মাথা নত করেননি।
পবিত্র রমজান মাসের জুমাবারে তিনি চলে গেলেন তাঁর প্রভুর সান্নিধ্যে। তিনি আমাদের প্রিয় শিক্ষক, বাঁশখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়–এর হেড মাওলানা আরিফ মোহাম্মদ হাসান নূর স্যার।

পবিত্র কোরআনের বাণী মনে পড়ে—
“হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার রবের দিকে ফিরে যাও, তুমি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট এবং তিনি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।” (সূরা আল ফাজর ২৭–৩০)
আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

স্মৃতিচারণে
মিজানুর রহমান
এসএসসি ২০০৩ ব্যাচ
বাঁশখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews