
শিব্বির আহমদ রানা::: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সামাজিক সংগঠন ‘আমার গ্রাম’-এর উদ্যোগে এ বছর এ পর্যন্ত ১ হাজার ১০০টি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে এবং বৃক্ষরোপন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। চলতি বছর বাঁশখালী গার্লস কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাঁশখালী সচেতন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ও বরেণ্য শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মেজবাহুল হক।
‘আমার গ্রাম’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং শীলকূপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আকতার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী সচেতন নাগরিক ফোরামের সদস্যসচিব ডা. রশিদ আহমেদ, অর্থ সম্পাদক অজিত কুমার দাশ, হাসান মোস্তফা, এন এ হেলাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার নাফিজ মিনহাজ, শীলকূপ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাশেদ নূরী, সমাজকর্মী এনামুল হক, আবু ওবাইদা আরাফাতসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে ‘আমার গ্রাম’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বলেন, ‘চলো করি বৃক্ষরোপণ, গড়ে তুলি সবুজ ভুবন’–এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৯৯৭ সালে ‘আমার গ্রাম’-এর যাত্রা শুরু হয়। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঁশখালীতে সবুজায়ন ও পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে।
তিনি বলেন, তৎকালীন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী এবং বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সহযোগিতায় সংগঠনটির বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০২ সালে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে শীলকূপের টাইমবাজার থেকে গণ্ডামারা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ‘আমার গ্রাম’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
এ ছাড়া মনছুরিয়া বাজার থেকে বাঁশখালী ইকোপার্ক পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ‘আমার গ্রাম’ ও বন বিভাগের সহযোগিতায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
আকতার হোসেন বলেন, পরবর্তীতে রোপণ করা গাছগুলো বড় হওয়ার পর কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন সময় কিছু কিছু গাছ কেটে নিয়ে যায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যেই ‘আমার গ্রাম’ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও সংগঠনটির বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ‘আমার গ্রাম’-এর উদ্যোগে রোপণ করা বৃক্ষের সংরক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য দুজন কর্মীও নিয়োগ দিয়েছিলেন। বক্তারা বৃক্ষনিধন রোধ এবং রোপণ করা গাছের সুরক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।