
বাঁশখালী সংলাপ প্রতিবেদন::: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক কৃষকের প্রায় ১২০টি কলাগাছ ও শিম-বরবটির ক্ষেত কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে আপন বড় ভাই ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল কালীপুর এলাকায় ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আব্দুর রশিদ মৃত সোলতান আহমদের ছেলে। তিনি অছিয়র রহমানের বাড়ি এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে আব্দুর রশিদের মেজ ভাই মো. লাল মিয়া এবং তার দুই ছেলে রেজা মিয়া ও মো. হামীমকে।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে কলাবাগান ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করেন। তাদের চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারা হওয়ার পর নিজের প্রাপ্য অংশে তিনি চাষাবাদ করে আসছিলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার প্রাপ্ত জমিতে লাগানো প্রায় ১২০টি কলাগাছ প্রকাশ্য দিবালোকে কেটে ফেলা হয়েছে। অধিকাংশ গাছে কলা ছিল। পাশাপাশি শিম ও বরবটির ক্ষেতও কেটে নষ্ট করা হয়েছে। এতে আমার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।’

আব্দুর রশিদের দাবি, তার মেজ ভাই লাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি এককভাবে ভোগ করার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস-বিচার হলেও তিনি তা মানেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘গত বছরও একইভাবে আমার কলাবাগান ও সবজি ক্ষেত কেটে নষ্ট করা হয়েছিল। এবারও পরিকল্পিতভাবে আমার চাষাবাদের ক্ষতি করা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
মামলা-মোকদ্দমা করলে অভিযুক্ত লাল মিয়া ও তার ছেলেরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করেন আব্দুর রশিদ।
ঘটনার স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও একই এলাকার কয়েকজন কৃষক, যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জানান–প্রকাশ্য দিবালোকে তারা লাল মিয়া ও তার ছেলেদের আব্দুর রশিদের কলাবাগান ও সবজি ক্ষেত কাটতে দেখেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় দোকানপাটেও লাল মিয়ার এক ছেলে প্রকাশ্যে তাদের বাগান কেটে দেওয়ার কথা বলাবলি করেছেন বলে দাবি করেন তারা।
লাল মিয়ার আরেক ছোট ভাই প্রবাস ফেরত মো. শাহ আলমও অভিযোগ করে বলেন, লাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভাইবোনদের পৈত্রিক সম্পত্তির অংশ নিয়ে জোর-জুলুম করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই আব্দুর রশিদসহ আমরা অন্য ভাইবোনেরা নিজেদের পৈত্রিক অংশ দাবি করলে লাল মিয়া বিভিন্নভাবে বাধা দেন। এমনকি বোনেরাও তাদের প্রাপ্য অংশ চাইলে তিনি তা দিতে রাজি হন না। জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।’
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. লাল মিয়ার ছেলে হামীম মুঠোফোনে বলেন, ‘কলাগাছ কে বা কারা কেটেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। আমি দোকানে থাকি এবং আমার ভাই প্রতিবন্ধী–সে কীভাবে গাছ কাটতে যাবে? জমিটি আমার বাবার এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনিই এটি দেখভাল করে আসছেন। তারা প্রবাস থেকে এসে জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন। তাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওই জমির এখনো ভাগবাটোয়ারা হয়নি। তারা স্থানীয়ভাবে কোনো বিচার-সালিশও মানেন না।’ তবে স্থানীয়রা তাদের কলাগাছ কাটতে দেখেছেন এবং এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন–এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান হামীম। পরে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা বাইরে গেছেন। তিনি ফিরে এলে আপনাদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেব।’ এরপর তিনি মুঠোফোনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।