শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন দুর্গোৎসব উদযাপনে শীলকূপের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শীলকূপ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন বাঁশখালীতে পারিবারিক কলহে বিদ্যুতের খুঁটিতে যুবক, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় উদ্ধার বাঁশখালীতে সাত্ত্বিক পূজা নির্বাচন কমিটি গঠন বায়তুল ইরফান আদর্শ মাদরাসায় বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নৈতিক চরিত্র গঠনে আলোচনা সভা সাত দিন পর দেশে ফিরল বিমানে মারা যাওয়া বাঁশখালীর প্রবাসী জসিমের মরদেহ বাঁশখালীর ৮৮ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগ, পুলিশের মতবিনিময় সভা শীলকূপ ইউনিয়নে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে চেয়ারম্যান রাশেদ নূরীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মা ইলিশ রক্ষায় বাঁশখালীতে নৈশ অভিযান: ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা বাঁশখালীতে ১৫ বছর ধরে দখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার

বন্যার বিভীষিকা ‘ফেসবুকের চেয়ে বাস্তবতা ছিল আরও কঠিন’–ডা. মুমিনুল হকের স্মৃতিচারণ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩২ বার পড়া হয়েছে

বাঁশখালী সংলাপ::: চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ভয়াবহ বন্যাকালে হাসপাতালের জরুরি সেবা, দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এবং নিজের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট করেছেন বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মুমিনুল হক।

শুক্রবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ৮ জুলাই রাতে চেম্বার শেষে সহকর্মী আছরার উল্লাহ নুরীর সঙ্গে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে বের হলেও শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই রাতেই রাত ১২টার দিকে বাঁশখালীর সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় চেচুরিয়া এলাকায় আটকে পড়া কয়েকজন গর্ভবতী নারীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে তিনি রাত ৩টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে থেকে চিকিৎসাসেবা দেন।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরদিন বাড়ি ফেরার চেষ্টা করলেও মিয়ার বাজার এলাকায় গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দেখতে পেয়ে আবার হাসপাতালে ফিরে আসেন। তাঁর ভাষায়, সে সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ যেকোনো বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত ছিল।

ডা. মুমিনুল হক জানান, শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হলেও সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ শুরু করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. নাজমা আক্তারের নেতৃত্বে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাঁশখালীর ১৫টি ইউনিয়নকে ১৫টি জরুরি মেডিকেল গ্রুপে ভাগ করে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়।

নিজের এলাকায় পৌঁছাতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে যেতে হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা বাড়িতে অবস্থান করে আবার হাসপাতালের দায়িত্ব পালনে ফিরে যান।

বন্যার দুই দিন পর শেখেরখীল এবং পরদিন ছনুয়া ইউনিয়নে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাস্তব চিত্র দেখে আবেগাপ্লুত হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পোস্টে লিখেছেন, ‘ফেসবুকে যতটা দেখেছি, বাস্তবতা তার চেয়েও অনেক কঠিন। যতটুকু পেরেছি, মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’

সবশেষে তিনি লেখেন, বর্তমানে নিজ বাড়িতে থাকলেও অনেক মানুষের মাটির ঘর ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য এখনো চোখে ভাসে। এই দুর্যোগে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি মহান আল্লাহর কাছে সবার নিরাপত্তা ও দুর্দিন থেকে মুক্তির প্রার্থনা করেন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews