
শিব্বির আহমদ রানা::: পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাড়ে ১০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করেছেন বাঁশখালীর জনপ্রিয় চিকিৎসক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আসিফুল হক।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নে তাঁর নিজ বাসভবন থেকে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক, ধর্মীয় ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, মসজিদ-মাদরাসা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এসব চারা বিতরণ করা হয়। এ কর্মসূচিতে একদল স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিয়ে চারা বিতরণে সহযোগিতা করেন।
ডা. আসিফুল হক প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশখালীজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছেন। এ বছরও তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ব্যয় নির্বাহ করে মোট ১০ হাজার ৫০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন।
চারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল উপজেলার মানবিক ও সামাজিক সংগঠন মানবতার কল্যাণে আমরা, রক্তের সন্ধানে বাঁশখালী, একুশে ফাউন্ডেশন, বৈলছড়ি ব্লাড ডোনেশন ক্লাব, কালীপুর ব্লাড ব্যাংক, উষা, হুব্বে মোস্তফা, কাথরিয়া ইউনিয়ন গাউসিয়া কমিটি, কিবিরণ সংস্থা, দাওয়াতী ইসলামী সংগঠনসহ ১৩০টিরও বেশি সংগঠন। এছাড়া ৩০টির অধিক মসজিদ-মাদরাসা এবং ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তিগত উপকারভোগীর মাঝেও এসব চারা বিতরণ করা হয়।
বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল লেবু, পেয়ারা, জাম্বুরা, জলপাই, তেঁতুল, আমলকি, অর্জুন, মেহগনি, শীলকড়ই, ডালিম, কালোজাম, গামারি, শিশু, তেলসুর, আমড়া, গর্জন, বেল, কাঠাল, হিজল, সুপারি ও কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।
ডা. আসিফুল হক বলেন, ‘একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সবুজ করে না, মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎকেও নিরাপদ করে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রতি বছর নিজস্ব উদ্যোগে এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। আমি চাই, প্রতিটি পরিবার অন্তত একটি হলেও গাছ লাগাক এবং পরিচর্যা করুক। তাহলেই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ বাঁশখালী গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা আমাদের নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। পরিবেশ রক্ষা ও প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে সবাইকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে হবে।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাঁশখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার সময় ডা. আসিফুল হক একদল স্বেচ্ছাসেবককে সঙ্গে নিয়ে সর্বপ্রথম দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন। তাঁর এ মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।