
শিব্বির আহমদ রানা::: চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নের প্রায় দুইশো বছরের পুরোনো ‘সিমাই খাল’ এখন দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে। একসময় নৌযান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত খালটি বর্তমানে ময়লার ভাগাড় ও অবৈধ স্থাপনার দখলে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের কয়েক হাজার পরিবারকে জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব চাম্বলের দক্ষিণ ইজ্জতিয়া ব্রিজ এলাকা থেকে বাংলাবাজার জলকদর খাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল অতীতে ব্যবসায়িক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কুতুবদিয়া ও মাতারবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ীরা নৌকা ও সাম্পানে পণ্য পরিবহন করতেন এ পথে। খালে নিয়মিত জোয়ার-ভাটাও চলত। তবে সময়ের ব্যবধানে দখল, ভরাট ও দূষণে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, চাম্বল পাহাড়ের পাদদেশ থেকে জলকদর খাল পর্যন্ত বিস্তৃত এ খালটি চাম্বল ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ১৫ থেকে ১৬ হাজার মানুষের বর্ষার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। খালটি চাম্বল বাজার হয়ে বাঁশখালী প্রধান সড়ক অতিক্রম করে জলকদর খালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাম্বল বাজার এলাকার প্রধান সড়কের ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশে খালের বড় অংশ দখল করে দোকানঘর ও পাকা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। বাজারের ময়লা-আবর্জনাও নিয়মিত খালে ফেলা হচ্ছে। এতে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের পশ্চিমাংশের মুখও দখল হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের বসতঘর, মাছের ঘের ও কৃষিজমি তলিয়ে যাচ্ছে।
ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ রশিদ আহমদ বলেন, ‘এটি বহু পুরোনো খাল। একসময় এখানে নৌকা-সাম্পানের ভিড় ছিল। এখন খালটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রতি বর্ষায় তিন হাজারের বেশি কৃষকের জমি পানিতে ডুবে যায়। অনেক বসতঘরেও পানি ওঠে।’
স্থানীয় বাসিন্দা জাকের হোসেন ও আলী নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, বাজারের ময়লার স্তূপের কারণে খালে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বর্ষায় জলাবদ্ধতায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়ে গেছে।
মিজানুর রহমান নামে আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বাজারের ইজারাদার ইজারার শর্ত না মেনে খালে ময়লা ফেলছেন। এতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থার মুখোমুখি হন।
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা জানান, খালের উভয় প্রান্তে অবৈধভাবে দোকানঘর ও স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে খালটি দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তাঁরা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জরুরি ভিত্তিতে খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন।
চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ বলেন, বর্ষাকালে প্রবল বৃষ্টিতে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের ফসলি জমি ও মাছের ঘের তলিয়ে যায়। খালটি দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, সরকারি খাল দখল করে পানি প্রবাহ ব্যাহত করার অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।