
বাঁশখালী সংলাপ::: বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুনিরুল মান্নান চৌধুরী নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৪ মে অনুষ্ঠিত ভিজিএফ কমিটির সভায় সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাব দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়। তার দাবি, বিধিমালা অনুযায়ী ওয়ার্ড কমিটি তালিকা প্রস্তুত করবে, ইউনিয়ন কমিটি তা যাচাই করবে এবং উপজেলা কমিটি অনুমোদন দেবে। কিন্তু চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে ‘মনগড়া বিভাজন তালিকা’ তৈরি করে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
স্ট্যাটাসে মুনিরুল মান্নান চৌধুরী উল্লেখ করেন, সভা চলাকালে রেজুলেশন খাতায় আগাম স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডাও হয় বলে দাবি করেন তিনি।
পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন কে অবহিত করা হয় বলেও জানান ওই ইউপি সদস্য। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউএনও পুনরায় সভা করে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভিজিএফ বিতরণের নির্দেশনা দিলেও চেয়ারম্যান তা অনুসরণ করেননি।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই পূর্বনির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে মুনিরুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। আসুন, কাদা না ছুঁড়ে পরিবারকে শান্তিময় করতে ভূমিকা রাখি। মিলেমিশে শেষটা সুন্দর করি।’
এদিকে পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দিন চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইউপি সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মেম্বার ভাইদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা দ্রুত তালিকা জমা দিন। তালিকা না দিলেও ঈদের আগেই আমি নিজ দায়িত্বে তালিকা প্রস্তুত করে ভিজিএফের চাল গরিব ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেব। তাদের কষ্ট দেবেন না।’
তিনি নাম উল্লেখ না করে আরও বলেন, ‘কয়েকজন মেম্বার দুর্নীতির চেষ্টা করছেন। আপনারা ভালো হয়ে যান, জনগণের সেবা করুন।’
