
বাঁশখালী সংলাপ::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জলদী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জের আওতাধীন পুঁইছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিট ও নাপোড়া বিটের সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বন বিভাগ।
বনদস্যুতা, পাহাড় কাটা, গাছ পাচার ও বন্যপ্রাণী শিকারের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে শনিবার (২৩ মে) দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা গেছে, জলদী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাঈল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ টহলে রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন বিট কর্মকর্তা ও বন বিভাগের স্টাফরা অংশ নেন। টহল চলাকালে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করা হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এসময় বনদস্যুদের তৎপরতা, অবৈধ গাছ কাটা, পাহাড় ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বিনষ্টের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানায় বন বিভাগ। পাশাপাশি বনাঞ্চলে নজরদারি বৃদ্ধি ও নিয়মিত টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযান শেষে জলদী রেঞ্জ অফিসে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বন সুরক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, বন আইন বাস্তবায়নে কঠোরতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও আন্তরিক ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাঈল হক বলেন, ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষা ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করতে বন বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করছে। বনদস্যু, পাহাড়খেকো ও কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে সচেতন হয়ে বন সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।’
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে জলদী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকায় নিয়মিত টহল, নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।