
শিব্বির আহমদ রানা::: মোজাম্বিক থেকে দেশে ফেরার পথে মাঝ আকাশে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রবাসী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের (৩৫) মরদেহ সাত দিন পর দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তাঁর মরদেহ। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মরদেহটি তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনেরা জসিমের মরদেহ ফিরে পাওয়ায় পরিবার ও এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।
নিহত জসিম উদ্দিন বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পূর্ব চাম্বল ছড়ারকুল এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মোহাম্মদ ছৈয়্যদ মিয়া ও মাবিয়া খাতুনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় ১২ বছর ধরে মোজাম্বিকে বসবাস করছিলেন তিনি। দেশটিতে ব্যবসা পরিচালনা করতেন জসিম।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার মোজাম্বিকের মাপুতো বিমানবন্দর থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন জসিম। কাতারের দোহাগামী ওই ফ্লাইটে মাঝ আকাশে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ কাতারের হামাদ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
জসিমের বড় ভাই মো. ইউনুস জানান, কাতারে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে কার্গো ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ চট্টগ্রামের উদ্দেশে পাঠানো হয়।বৃহস্পতিবার সকালে তা শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। মরদেহ দেশে আনতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জসিমের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ মা-বাবা, ভাই-বোন ও অসংখ্য আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। গত বছরও তিনি দেশে এসেছিলেন। এবার দেশে ফেরার পথেই তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় পূর্ব চাম্বল ছড়ারকুল লোদী জামে মসজিদ মাঠে জসিম উদ্দিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।