
নিজস্ব প্রতিবেদক::: টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে শীলকূপ ইউনিয়নের পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৬ শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েছে। ইতোমধ্যে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে অন্তত ৭টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় অনেক পরিবার ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হেডপাড়ার পশ্চিমাংশ, নতুনপাড়া এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ ও কালভার্ট প্রভাবশালী মহল দখল করে বসতঘর নির্মাণ করায় পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে। একইভাবে মহল্লাপাড়া বাজারসংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলও পানিতে তলিয়ে গেছে।
এ ছাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমাংশ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণাংশ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাড়ির পশ্চিমাংশ এবং ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকাও পানিবন্দি রয়েছে।
অন্যদিকে ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ঘেরা ৯ নম্বর ওয়ার্ডে টানা চার দিনের বর্ষণে এ পর্যন্ত অন্তত ৭টি বসতঘর পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

বুধবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন করেন শীলকূপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ নুরী। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে এমন টানা ভারী বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি। অতিবর্ষণের কারণে পাহাড়ে বসবাসকারী অনেক মানুষ ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। একই সঙ্গে ইউনিয়নের পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৬ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে দীর্ঘদিনের পানি চলাচলের পথ ও কালভার্ট বন্ধ করে দেওয়ায় স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলেই অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত থাকলে এমন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হতো না।’
চেয়ারম্যান আরও জানান, তিনি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামপুলিশ পানিবন্দি পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।