
বাঁশখালী সংলাপ::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভা এলাকায় গভীর রাতে ভাড়াটে লোকজন এনে এক সাংবাদিকের মালিকানাধীন পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে বাঁশখালী পৌরসভা ভবনের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত আনোয়ারা-বাঁশখালী পিএবি প্রধান সড়কসংলগ্ন একটি জমিতে টিনের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় বাঁশখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাহার উল্লাহপাড়া এলাকার মৃত ফয়জুল্লাহর ছেলে শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লীষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জমিদার মরহুম শেখ ওয়াজেদ আলী ১৯৫১ সালে ১০১৭ নম্বর দলিলমূলে আরএস ৪৯২২ ও বিএস ৭৭৮৪ দাগভুক্ত ১০ শতক জমি জলদী মাখজানুল উলুম বাইঙ্গাপাড়া বড় মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পীরে কামেল মরহুম মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহ.)-এর নিকট বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর উত্তরাধিকারীদের দখলে রয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশ এবং পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে জমির দক্ষিণ পাশে দুটি দোকানও নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শনিবার গভীর রাতে শহিদুল্লাহ নিজেকে জমির দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করে কিছু লোকজন নিয়ে সেখানে টিনের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় জমির দাবিকৃত মালিকপক্ষ বাধা দিলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও বাঁশখালী প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব মু. মিজান বিন তাহের বলেন, ‘জমিটি আমার দাদা মোহাম্মদ আলী ১৯৫১ সালে ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভোগদখলে রয়েছি এবং সেখানে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছি। জমির পক্ষে আদালতের রায় এবং পৌরসভার অনুমোদনও রয়েছে। এরপরও গভীর রাতে লোকজন এনে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ‘জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত কাজ বন্ধ রাখার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, ‘গভীর রাতে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল্লাহর সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ হয়নি।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া না হলে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
