
বাঁশখালী সংলাপ সংবাদদাতা :::: চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার মুরাদনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূ জেরিন আকতারের (২১) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জেরিন আকতার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব কাথারিয়া এলাকার বাসিন্দা। ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আশিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিষয় ও যৌতুকসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের বড় বোন ঝিনু আরা বেগম দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন সকালে জেরিনকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গালিগালাজ করা হয়। একই সঙ্গে আগে দায়ের করা একটি যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ বিষয়ে জেরিন মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের অবহিত করেছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২০ জুন সন্ধ্যায় জেরিন আত্মহত্যা করেছেন—এমন সংবাদ পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, দেবর, ননদ ও ননদের স্বামীসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি কহিনুর বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক ও পারিবারিক নির্যাতনের কারণেই জেরিন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।