
শিব্বির আহমদ রানা:::
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে ইউনিয়নভিত্তিক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (২২ মে) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শীলকূপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসেবন, প্রকাশ্যে জুয়া এবং অনলাইন বেটিং অ্যাপের মাধ্যমে জুয়ার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হকের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য এই বিশেষ অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে শীলকূপ ইউনিয়নের বিভিন্ন অলিগলি, দোকানপাট এবং অভিযোগের ভিত্তিতে চিহ্নিত কয়েকটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদকসেবনের দায়ে উত্তর চাম্বল মিঠাপাড়া এলাকার মো. আবদুল কাদের (৪২) কে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া মাইঝপাড়া এলাকার মো. আবুল বশর (২৯) ও নুরুল আমিন প্রকাশ টেনশন আমিন (৪৪) কে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।জালিয়াখালী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আজিজ (২০) ও মো. ছাবের আহমেদ (৩৪) কে তিন মাস করে এবং বাণীগ্রামের নতুনপাড়া এলাকার মো. আলাউদ্দিন (৪৫) কে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে প্রকাশ্যে জুয়া খেলা ও অনলাইন বেটিং অ্যাপের মাধ্যমে জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগে মনকিচর এলাকার সাতজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে মো. দিদারুল আলম (২২) কে ছয় মাসের, আজগর হোসেন (৩২) কে তিন মাসের এবং সাহাব উদ্দিন (৩০), আব্দুল জব্বার (৫৫), আব্দুল গফুর (৩০), মনছুরুল হক (৪০) ও মো. মোজাফফর আহমদ (৪২) কে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাঁশখালীকে মাদক ও জুয়ার প্রভাবমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, ‘মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসচেতনতা ও জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।’
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, ‘মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে। যারা এখনো এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাঁদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাই।’
এদিকে প্রশাসনের এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে এমন ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং তরুণ সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।