
শিব্বির আহমদ রানা:: বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরীকে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা মিস ক্যারিকম ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের (এমসিআইএফ) শান্তি ও শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সামাজিক কল্যাণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে আন্তর্জাতিক সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে।
এমসিআইএফের দেওয়া নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, শান্তি ও শুভেচ্ছাদূত হিসেবে রবি চৌধুরী শান্তি, ঐক্য, মানবিক সেবা, সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া, শিক্ষা, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন। সংস্থাটির মূল্যবোধ ও কার্যক্রমের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি নিজ দেশ, নিজ সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি, সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানুষের ক্ষমতায়নের পক্ষে কাজ করার দায়িত্বও তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়েছে।
নিয়োগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, শান্তি ও শুভেচ্ছাদূত হিসেবে রবি চৌধুরী শান্তি, ঐক্য ও সম্প্রীতির পক্ষে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও মানবাধিকার বিষয়ে প্রচার, নারী, তরুণ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন, আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং এমসিআইএফকে সততা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করাও তাঁর দায়িত্বের অংশ।
সনদে এমসিআইএফকে জাতিসংঘের সঙ্গে পরামর্শমূলক মর্যাদা (কনসালটেটিভ স্ট্যাটাস)-সম্পন্ন একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রমের প্রতিপাদ্য হিসেবে শান্তি, মানবিকতা ও মানুষের ক্ষমতায়নের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সনদে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে অ্যাম্বাসেডর ড. মনিকা সানচেজ-এর নাম রয়েছে।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটন মোটরকার্সে আয়োজিত সেলিব্রিটি রেড কার্পেট গালা অন ফ্যাশন উইক অনুষ্ঠানে রবি চৌধুরীকে ‘প্লাটিনাম হু’স হু–দ্য আলটিমেট ইন অ্যাচিভমেন্ট’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। মানবিকতা, নেতৃত্ব, উৎকর্ষ, বৈশ্বিক প্রভাব ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
রবি চৌধুরীর নামে দেওয়া ‘অর্জন সনদে’ মানবতার প্রতি তাঁর নিবেদন এবং আরও সহমর্মী ও মানবিক বিশ্ব গঠনের প্রত্যয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্মাননা ও নিয়োগের বিষয়ে রবি চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি পাওয়া তাঁর জন্য আনন্দ ও গর্বের। একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন। এ স্বীকৃতি তাঁকে সংগীতের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে। শান্তি, সম্প্রীতি ও মানুষের কল্যাণে নিজের অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে চান তিনি।
রবি চৌধুরী বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ। ১৯৯০-এর দশকে চলচ্চিত্রের নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁর ৬৪টি অডিও অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি ৭০ থেকে ৮০টি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে তিনি নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা রবি চৌধুরী দীর্ঘ সংগীতজীবনে দেশের শ্রোতাদের কাছে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন। সংগীতের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, শান্তি ও সামাজিক কল্যাণে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক এ সম্মাননা ও দায়িত্ব তাঁর কর্মজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।