1. news@banshkhalisanglap.com : বাঁশখালী সংলাপ : বাঁশখালী সংলাপ
  2. info@www.banshkhalisanglap.com : বাঁশখালী সংলাপ :
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাঁশখালীতে পারিবারিক বিরোধে খুন, পলাতক অভিযুক্তরা বাঁশখালীতে গভীর রাতে এসি (ল্যান্ড)-এর অভিযান: মাটিভর্তি ট্রাক জব্দ, পালাল চালক কলকাতার সিনেমায় বাঁশখালীর জাহিদ: আন্তর্জাতিক প্রজেক্টে নতুন দিগন্ত বাঁশখালীর কালীপুরের লিচু: স্বাদে সেরা, দামে সবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাঁশখালীর প্রবাসী মহি উদ্দীনের নেশার টানে সর্বস্বান্ত, বাঁশখালীতে হাতেনাতে ধরা—৪ মাসের কারাদণ্ড পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে বাঁশখালীতে ফারিয়ার মানববন্ধন হুজুরের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচার: বাঁশখালীতে ৫০০ পিসসহ আটক এক ব্যক্তি চার কন্যা নিয়ে নিঃস্ব লেদু, আগুন কেড়ে নিল শেষ আশ্রয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে কড়াকড়ি: বাঁশখালীতে অভিযানে বোট মালিক দণ্ডিত

নতজানু মুসলিম বিশ্বে প্রতিধ্বনিত এক বীর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর সংগ্রাম ও সমাপ্তি

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ২৩১ বার পড়া হয়েছে

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ বিশ্ব রাজনীতি ও ইসলামি ইতিহাসের একটি চিরস্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে–সেই দিন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী‌র দীর্ঘ শাসন ও সংগ্রামের পর মৃত্যু ঘটে, যা মুসলিম বিশ্বে গভীর সংবেদন ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তিনি ছিলেন এমন এক সময়ের নায়ক, যিনি ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ থেকে শুরু করে ইরানের আধুনিক ভূ-রাজনীতির একধরনের প্রতীক হয়ে ওঠেন। তাঁর জীবন ও নেতৃত্বকে কেউ ন্যায়ের আলোতে দেখেছেন ‘মুসলিম উম্মাহর প্রতিরোধের প্রতীক’ হিসেবে, আবার অনেকে সমালোচকের চোখেই দেখেছেন কঠোর নীতির অধীনে নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রব্যবস্থার স্থপতিত্বে। কিন্তু সবকিছুর মাঝেও তাঁর সাহস, দৃঢ়তা এবং ইসলামী রাজনীতিতে অবদানের প্রতিফলন যে অনেক প্রসঙ্গে স্পষ্ট তা অস্বীকার করা যায় না।

সংগ্রাম ও সুদীর্ঘ জীবন যাত্রা: আয়াতুল্লাহ খামেনী ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ধর্মীয় শিক্ষায় নিযুক্ত হন– বিভিন্ন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রে অধ্যয়ন করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন সূচিত হয় ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব-এর মাধ্যমে, যেখানে তিনি শাহ পহলাভির ক্ষমতা উৎখাতের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। বিপ্লবের পর তিনি দ্রুতই রাজনৈতিক নেতৃত্বের শীর্ষে আসেন–ইরানের প্রেসিডেন্ট (১৯৮১-১৯৮৯) থেকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত। এই সময় থেকেই তার সৈনিকসুলভ দৃঢ়তা ও প্রতিরোধবোধ স্পষ্ট হতে থাকে—বিদেশী প্রভাব, সাম্রাজ্যবাদী চাপ এবং অঞ্চলীয় বিরোধিতার বিরুদ্ধে তিনি দৃঢ় মনোবল এবং আত্মনির্ভরতার নীতি উপস্থাপন করেন। এই নীতিই পরে ‘প্রতিরোধের অসিম শক্তি’ হিসেবে মুসলিম বিশ্বে এক চলমান আদর্শের স্বীকৃতি পায়।

মুসলিম বিশ্বে প্রতিরোধ ও সহায়তা: খামেনীর সবচেয়ে বিতর্কসৃষ্ট কিন্তু অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য অবদান হল তাঁর রণনীতি ও সমর্থিত জোট ব্যবস্থা—সাধারণভাবে ‘অ্যাক্সিস অফ রেসিস্টেন্স (Axis of Resistance)’ নামে পরিচিত। এই নীতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও শক্তিধর পশ্চিমা শক্তিগুলোর বিরোধিতা করে একটি শক্তিশালী বিরোধী জোট গঠনের উদ্যোগ নেন। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরান–হেজবলাহ (লেবানন), আল নুসরা/হুথি গোষ্ঠী (ইয়েমেন), শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী (ইরাক ও সিরিয়া)-কে সহায়তা প্রদান করে, এবং ফিলিস্তিনের বিরোধিতায় সমর্থন দেয়। এই সমস্ত উদ্যোগ কেবল মুসলিম বিশ্বের কিছু অংশে প্রতিরোধের নীতি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি; এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে ইরান সশস্ত্র ও কূটনৈতিক স্থায়ী একটি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়, যে ভূমিকাটি বহু মুসলিম রাজনীতিবিদ ও সমর্থক ‘একটি স্বাধীন ও প্রতিরোধী মুসলিম শক্তির প্রতীক’ হিসেবে দেখেন।

মুসলিম ঐক্য ও সশস্ত্র স্বাধীনতা: সাহসের প্রতীক
খামেনীর নীতিতে একটি প্রধান দিক ছিল ‘মুসলিম আত্মনির্ভরতা ও ঐক্য’–এটি তিনি নিরন্তর জোর দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মহলে। পশ্চিমা শক্তির উদ্দেশে তিনি প্রণয়ন করেছিলেন “গ্লোবাল আরোগ্যান্স” নামে বিশেষ সমালোচনা, যা তিনি মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যহীনতা এবং তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্তহীনতাকে বিপদসুচক বলতেন। অনেক মুসলিম দেশের জনগণের কাছে তিনি এক সঙ্ঘাত-হীন সাহসী নেতা হিসেবে প্রতীয়মান হন–যিনি বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের স্বীকৃতি, মর্যাদা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবি তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে পশ্চিমা শক্তির প্রভাব, নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও সামরিক হুমকির বিরুদ্ধে তিনি ইরানকে প্রতিরোধের মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর দাবি করেছেন। এমনকি অনেক সমালোচকও স্বীকার করেন যে খামেনীর এই ‘অবমাননার প্রতিরোধ’ নীতি রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে একধরনের স্থিতিশীলতা প্রদান করেছিল।

ঘরোয়া চ্যালেঞ্জ: নৈতিকতা ও মানবাধিকার প্রশ্ন
সমালোচনা সত্ত্বেও, প্রকৃত মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে তাঁর নেতৃত্বের পুরোটাই “সাহস” বা “বীরত্ব” বলে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হবে না। তাঁর শাসনকালে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও আন্দোলন যেমন দেখা গেছে–বিশেষ করে ২০২২ সালের ‘ওম্যান, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলন, যেখানে নারীদের অধিকারের দাবি তোলার সময় ব্যাপক প্রতিবাদ হয়–তেমনি স্বাধীন মতামত ও মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক দরবারে প্রহারও হয়েছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষক এই সময়কেও মুসলিম বিশ্বে একটি চরম বিতর্কপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেন–সেখানে তাঁকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের অপরাধের দায়েও অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর অনুগতরা এটিকে ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ঐক্য রক্ষার প্রয়াস’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

শেষ অধ্যায়ের সূচনা: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬-এ আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানে আয়াতুল্লাহ খামেনীর মৃত্যু ঘোষণা করা হলে তা একাধিক দিক থেকে বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ইরান ৪০ দিন শোক ঘোষণা করলেও বিশ্ব রাজনীতিতে এটি একটি বড় জোড়ালো পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তাঁর প্রয়াণ মুসলিম বিশ্বে দুইভাবে প্রতিধ্বনিত হয়েছে– কেউ এটিকে একটি ‘মধ্যপ্রাচ্যের সেনাপতির পতন’ হিসেবে দেখে, তো আরেকদল এটিকে মুসলিম ঐক্য ও প্রতিরোধের ইতিহাসে একটি সংক্ষিপ্ত শোকের অধ্যায় বলে মনে করছেন। এই বিপুল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিণতি নিশ্চিতভাবেই বহু যুগ ধরে আলোচনা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয় হয়ে থাকবে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী ছিলেন এমন এক সময়ের নেতা–যিনি সাহস, প্রতিরোধ ও ইসলামী নীতির দৃষ্টিকোণকে সমান্তরালে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তার নেতৃত্বের নীতির কেন্দ্র ছিল একটি “স্বাধীন, আত্মনির্ভরশীল ও প্রতিরোধী মুসলিম বিশ্ব” গঠনের আকাঙ্ক্ষা। যদিও অনেকেই তাঁর নীতির উপর সমালোচনামূলক প্রশ্ন তুলেছেন, তবুও তাঁর নেতৃত্ব কি যেন মুসলিম রাজনীতির ভূ-পরিকাঠামোতে এক বিরাট ছাপ রেখে গিয়েছে–সেটি সুদূরপ্রসারী ও বহুস্তরীয়। আজ তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি আলাদা রাজনৈতিক যুগের সমাপ্তি নয়; এটি মুসলিম বিশ্বে সাহস, নেতৃত্ব ও প্রতিরোধের ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে এক আহ্বানও হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাহলে কি তিনি “মহাবীর”? ইতিহাসের বিচারে বীরত্ব একপাক্ষিক নয়। সমর্থকেরা বলেন-দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধের হুমকি ও রাজনৈতিক চাপে থেকেও রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখা এবং আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সহজ কাজ নয়। তাঁদের চোখে তিনি সাহস ও দৃঢ়তার প্রতীক। সমালোচকেরা বলেন—একজন নেতার মূল্যায়নে নাগরিক অধিকার ও মানবিক স্বাধীনতার প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী ছিলেন এক জটিল সময়ের জটিল নেতা। তাঁর জীবনসংগ্রাম, আদর্শিক দৃঢ়তা এবং রাজনৈতিক কৌশল মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে দীর্ঘদিন আলোচিত হবে। তাঁর প্রয়াণ শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়; এটি এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান—যার প্রতিধ্বনি বহু বছর ধরে বিশ্ব রাজনীতিতে শোনা যাবে।

লেখক-
শিব্বির আহমেদ রানা
গণমাধ্যমকর্মী ও কলাম লেখক
বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট