
নিজস্ব সংবাদদাতা::: বাঁশখালীর উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো অভিযোগ নির্ভয়ে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বাঁশখালীর সাংসদ অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, এমপি বা তাঁর সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে, কিংবা এলাকার সুবিধা-অসুবিধা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জনগণ সরাসরি অভিযোগ ও পরামর্শ দিতে পারবেন।
তিনি জানান, চাম্বল, উপজেলা সদর ও গুনাগরী—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হবে। প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখতে চাম্বল ও উপজেলা সদরের দলীয় কার্যালয়ে তাঁকে পাওয়া যাবে এবং শিগগিরই একটি হটলাইন সেবা চালু করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তাদের মতামত ও অভিযোগ জানাতে পারেন।
ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অহংকার বা ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না।
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনকালীন দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাঁশখালীতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। সরকারি দপ্তরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাঁশখালীর প্রধান সড়ক দ্রুত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে চাম্বল হোসাইনীয়া কনভেনশন হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাম্বল ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি’কে নাগরিক সংবর্ধনা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চাম্বল ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আব্দুল জলিল মানিকের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মোস্তফা হোসাইন হেলালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আরিফ উল্লাহ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সেক্রেটারি মোখতার হোসাইন সিকদার, উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম সাইফুল ইসলাম, শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ মর্তুজা আলী, সাতকানিয়া আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মনিরুল আলম, ওমর গণি এমইএস কলেজের অধ্যাপক রেজাউল করিম, জলদি হোসাইনিয়া কামিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুর রহমান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক আলী নেওয়াজ চৌধুরী ইরান।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যাংকার আব্দুল আজিজ, ব্যবসায়ী রোকন উদ্দীন চৌধুরী রিপন, শাহাদাত হোসাইন সিকদার, ইউনিয়ন কর্মপরিষদ সদস্য এনামুল হক, মাওলানা হেলাল উদ্দিন, মাওলানা আইয়ুব ওসমানী, মাস্টার নাজিম উদ্দীন, হুমায়ুন মোর্শেদ, ক্বারী মাওলানা জহিরুল ইসলাম, কফিল উদ্দীন এবং ছাত্রশিবির বাঁশখালী মধ্যম শাখার সভাপতি শাহাদাত হোসাইনসহ আরও অনেকে।
সভায় উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী বিজয়ী করতে না পারলে এমপির সেবা তৃণমূল পর্যায়ে যথাযথভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। এজন্য এখন থেকেই স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।