বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশে ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) ব্যবস্থা কি বদলানোর সময় হয়নি? বাঁশখালীতে সীমানার গাছের ডাল কাটা নিয়ে বিরোধ, চাচাতো ভাইয়ের আঘাতে বৃদ্ধের মৃত্যু শীলকূপে গভীর নলকূপ স্থাপনের চলমান কাজ পরিদর্শন, উপকৃত হবে ৩০০ পরিবার প্রবাসে ১৮ বছরের জীবনসংগ্রামের অবসান, মোজাম্বিকে ম্যালেরিয়ায় মারা গেলেন বাঁশখালীর এমদাদুল বাঁশখালীতে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা বাঁশখালীতে বনভূমি উচ্ছেদ অভিযানে বনকর্মীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, আহত ৬ হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁশখালীর মৃৎশিল্প বাঁশখালীতে হাসিনার নামে মাইকিংয়ের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ, জব্দ অটোরিকশা জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় অভিবাসন নিয়ে বাঁশখালীতে রামরু’র আলোচনা পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে বাঁশখালীতে অভিযান, একজনকে কারাগারে পাঠালেন এসি-ল্যান্ড

বাংলাদেশে ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) ব্যবস্থা কি বদলানোর সময় হয়নি?

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

কোনো অস্বাভাবিক বা অপমৃত্যুর পর প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি আমাদের দেশের পরিবারগুলোকে আরেকবার বুকফাটা কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়–তা হলো প্রথাগত বা সনাতন পদ্ধতির ময়নাতদন্ত (অটোপসি)। গরু কাটার মতো করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেহকে ক্ষতবিক্ষত করার এই দৃশ্য পরিবারের অনুভূতিতে গভীর আঘাত হানে। কিন্তু প্রযুক্তির এই যুগেও কি আমাদের এভাবেই চলতে হবে? বিশ্ব যখন বহু দূর এগিয়ে গেছে, আমাদের কি তবে সনাতন পদ্ধতিতেই আটকে থাকতে হবে?

বর্তমান ব্যবস্থার সমস্যাঃ আমাদের দেশের মর্গে এখনো সেই শতবর্ষ পুরোনো পদ্ধতিতেই ময়নাতদন্ত করা হয়। এতে কেবল মৃতদেহের শারীরিক মর্যাদাই ক্ষুণ্ন হয় না, বরং অনেক সময় নিখুঁত প্রমাণ সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া, একবার ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর লাশ দাফন বা সৎকার হয়ে গেলে নতুন করে আর কোনো দ্বিতীয় মতামত বা পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ থাকে না।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে কী হচ্ছে? যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলোতে বহু আগেই ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে ‘ভার্চুয়াল অটোপসি’ (Virtopsy) বা ডিজিটাল ময়নাতদন্ত পদ্ধতি চালু হয়েছে।

এই পদ্ধতিতে কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই মানুষকে পরীক্ষা করা হয়: পোস্টমর্টেম সিটি স্ক্যান ও এমআরআই: এর মাধ্যমে শরীরের ভেতরে থাকা বুলেট, ফ্র্যাকচার, রক্তক্ষরণ বা যেকোনো আঘাত নিখুঁতভাবে ধরা পড়ে। ৩ডি সারফেস স্ক্যানিং: শরীরের বাইরের ক্ষতের ত্রিমাত্রিক (3D) ডিজিটাল রেকর্ড রাখা হয়। মিনিমালি ইনভেসিভ টেকনিক: পুরো শরীর না কেটে কেবল সূক্ষ্ম সূচের মাধ্যমে বিষ বা টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। স্থায়ী ডিজিটাল রেকর্ড: এই স্ক্যানের ডিজিটাল ডেটা বছরের পর বছর সংরক্ষণ করা যায়, যা আদালতের বিচারে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করে এবং প্রয়োজনে যেকোনো সময় পৃথিবীর যেকোনো বিশেষজ্ঞ পুনরায় যাচাই করতে পারেন।

আমাদের করণীয়: ধর্মীয় অনুভূতি, মানবিক মর্যাদা এবং বিজ্ঞানের নিখুঁত সুফল পেতে আমাদের দেশের ফরেনসিক ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ ও মর্গে আধুনিক পোস্টমর্টেম ইমেজিং বা ‘ভার্চুয়াল অটোপসি’ প্রযুক্তি চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

প্রিয়জনের মৃত্যুর পর যেন পরিবারগুলোকে বাড়তি মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে না হয়, আসুন আমরা সবাই মিলে এই পরিবর্তনের দাবি তুলি। সচেতনতা তৈরি করতে পোস্টটি শেয়ার করুন।

লেখক:
সোলতানুল আজিম চৌধুরী
পুইছড়ি, বাঁশখালী।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews