
নিজস্ব সংবাদদাতা::: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে একটি মুদির দোকান থেকে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় দোকানমালিক মো. ইয়াহিয়াকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইজ্জতিয়া স্কুলসংলগ্ন একটি মুদির দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামজিদুর রহমান তন্ময়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াহিয়া (৩১) পশ্চিম পুঁইছড়ি লোয়াইপাড়া এলাকার মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে। জব্দ করা চাল পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিন আল হাসানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের একটি দল ওই দোকানে গিয়ে সরকারি বরাদ্দের চাল মজুত থাকার বিষয়টি দেখতে পায়। পরে তারা প্রশাসনকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় ইয়াহিয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকার করেন, তিনি তাঁর বোনের স্বামী মো. রশিদ আহমদের কাছ থেকে চালগুলো কিনেছেন। রশিদ আহমদ পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ইয়াহিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রশিদ আহমদের মালিকানাধীন মেসার্স চিটাগাং স্টোরে তল্লাশি চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে তিনি সেখান থেকে ছটকে পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে এসে রশিদ আহমদ সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে অশোভন ভাষায় কথা বলেন এবং তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামজিদুর রহমান তন্ময় বলেন, ‘সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল দোকানে মজুত ও বিক্রির দায়ে দোকানমালিক মো. ইয়াহিয়াকে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
জব্দ করা চালের উৎস, সরকারি বরাদ্দের চাল কীভাবে খোলাবাজারে বিক্রির পর্যায়ে গেল এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিলারের ভূমিকা কী–তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযানকালে পুঁইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বেলাল উদ্দিন আল হাসান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আরিফ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রিদুয়ানুল হক, বাঁশখালী থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল এবং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।