
বাঁশখালী সংলাপ::: বাঁশখালীর পার্শ্ববর্তী পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের টেকগুনা এলাকায় একটি পুকুরপাড় থেকে খৈয়্যা গোখরা (কোবরা) প্রজাতির একটি বিষধর সাপ উদ্ধার করে পরে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকগুনা এলাকার একটি পুকুরপাড়ে জালে আটকে থাকা প্রায় ৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রায় ৫ ইঞ্চি বেড়বিশিষ্ট সাপটি দেখতে পান স্থানীয় সচেতন বাসিন্দা শওকত হাসান। পরে তিনি ঝুঁকি নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর সাপটি নিরাপদে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিট অফিসে হস্তান্তর করা হয়। জলদী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাঈল হকের নির্দেশে বুধবার উদ্ধারকৃত সাপটিকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরে পুঁইছড়ি বিটের আওতাধীন এলাকা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে জোকখোলা এলাকার গভীর জঙ্গলে সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুঁইছড়ি বিটের ফরেস্ট গার্ড মো. জুয়েলুর রহমান, জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট সুভাষ চন্দ্র লস্কর এবং স্থানীয় ভিলেজ কনজারভেশন ফোরাম (ভিসিএফ) সদস্যরা।
বাঁশখালী উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাঈল হক বলেন, ‘বন্যপ্রাণী আমাদের পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগকে খবর দিলে আমরা দ্রুত উদ্ধার ও নিরাপদে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’
সাপটি উদ্ধারকারী শওকত হাসান বলেন, ‘সাপটি জালে আটকে কষ্ট পাচ্ছিল। তাই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সেটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছি, যাতে এটি নিরাপদে বনে ফিরে যেতে পারে।’
বন বিভাগ সূত্রে জানানো হয়, মানুষের বসতিতে ঢুকে পড়া বন্যপ্রাণীকে হত্যা না করে নিরাপদে উদ্ধার ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়ছে, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।