মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাঁশখালীতে অবাধে বালু উত্তোলনে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা, নীরব ভূমিকায় প্রশাসন বাঁশখালীতে একদিনে এক লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ‘এক দিনে লক্ষ বৃক্ষ’ কর্মসূচিতে শীলকূপে সাড়ে তিনশত চারা রোপণ ও বিতরণ বাঁশখালীতে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন পুঁইছড়িতে বন বিভাগের অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ জাতীয় যুবশক্তির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটিতে যুগ্ম সদস্য সচিব হলেন শহিদুল ইসলাম সাগর কাথরিয়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই বছরের শিশু আফনানের কিশোরগ্যাং খোরশেদের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ শীলকূপ-মাইজপাড়ার বাসিন্দারা, রাত হলেই বাড়ে আতংক অপহরণের পর টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, যেভাবে উদ্ধার হলেন বাঁশখালীর ব্যবসায়ী হাসান ভক্তি ও শ্রদ্ধায় বাঁশখালীতে প্রতিমা বিসর্জন, শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

বাঁশখালীতে অবাধে বালু উত্তোলনে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা, নীরব ভূমিকায় প্রশাসন

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

“সাঙ্গু নদী ও পাহাড়ি ছড়ায় বালু উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন”

শিব্বির আহমদ রানা::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উত্তর সীমান্তবর্তী সাঙ্গু নদী ও বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পুকুরিয়া ও খানখানাবাদ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার ও খননযন্ত্র বসিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রির কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে নদীভাঙন, কৃষিজমি, বসতভিটা ও সড়ক-সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, তৈলারদ্বীপ সাঙ্গু সেতুর দক্ষিণ পাশে বাঁশখালীর আঞ্চলিক সড়কসংলগ্ন (পিএবি) এলাকায় বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সেখানে ‘শিরোপা বিল্ডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বালু বিক্রয় ও সরবরাহের সাইনবোর্ড রয়েছে। এতে ডলুখাল বালুমহাল, চন্দনাইশ থেকে বালু সরবরাহের কার্যাদেশ এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের আদেশের স্মারক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই কার্যাদেশের আওতায় সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী স্থান থেকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুরিয়ার তেচ্ছিপাড়া ও খানখানাবাদের বিভিন্ন পয়েন্টে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। একইভাবে উপজেলার সাধনপুর, কালীপুর, বৈলছড়ী, জলদী, চাম্বল, নাপোড়া ও পুঁইছড়িসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি ছড়া থেকে যন্ত্রের সাহায্যে বালু তুলে ট্রাকযোগে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ও ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে সাঙ্গু সেতুর আশপাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে সেতুর পিলারের ভিত্তি, নদীর দুই তীর এবং আশপাশের অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বর্ষা মৌসুমে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন বাড়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নদী ও ছড়া থেকে বালু তুলে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।

তৈলারদ্বীপ সাঙ্গু সেতুর দক্ষিণ পাশে বালু বিক্রয়কেন্দ্রটির বিষয়ে জানতে চাইলে শিরোপা বিল্ডার্সের প্রতিনিধি সাকিব সিকদার শাহীন বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে অন্য স্থান থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু এনে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অনুমোদনসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন বলেন, সাঙ্গু সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমোদন নেই। তবে ডলুখাল থেকে বালু এনে বিক্রির অনুমোদন রয়েছে। উপজেলার অন্যান্য এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, নদী ও পাহাড়ি ছড়ার পরিবেশ রক্ষা এবং জনবসতি ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ বালু উত্তোলনের স্থানগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হোক।

ছবি: সাধনপুর ইউনিয়নের চৌধুরীঘাট ব্রিজের আগে রাতারকূল রাস্তার মাথা জলকদর খাল সংলগ্ন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews