
শিব্বির আহমদ রানা::: নির্বাচনের সময় বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারাদেশে ৪১ লাখ মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় চলতি বছর ১০ থেকে ১১ হাজার মায়ের হাতে এ কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী সমুদ্রসৈকত এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মধ্যে প্রতীকীভাবে স্বামীহারা এক নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়ে গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ত্রাণ বিতরণ, নগদ অর্থসহায়তা প্রদান করেন এবং বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম, বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে মূল কয়েকটি কাজে আমরা হাত দেব। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রজেক্টে হাত দিয়েছিলাম। প্রজেক্টের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চলতি মাসে আমরা কাজ শুরু করেছি।’
তিনি বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরে সমগ্র বাংলাদেশে ৪১ লাখ মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। বাঁশখালী উপজেলায় এ বছর ১০ থেকে ১১ হাজার মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। ক্রমান্বয়ে এ প্রকল্পের পরিধি বাড়িয়ে আরও অধিক পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে।’
নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেয়েছি পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও স্বাবলম্বী হোক। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের ব্যবস্থাও করেছি। আমরা লবণচাষিদের মাঝেও কার্ড তুলে দেব। এ অঞ্চলের লবণশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।’
চট্টগ্রামকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামকে কীভাবে শিল্পনগরী করা যায়, সে পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। এই যে বিশাল সমুদ্র, এটিও বাংলাদেশের সম্পদ। এ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা আছে। যেখানে চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক উপজেলার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ সরকার প্রত্যেক উপজেলার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করবে। এ সরকার জনগণের সরকার, জনগণের জন্য কাজ করে যাবে।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা দেশে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা যাবে না। কোনো বিভ্রান্তিতে কান দেওয়া যাবে না।’
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এ দেশের জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা জ্বালানি খাত ও বিদ্যুৎ খাতকে কীভাবে সমৃদ্ধ করা যায়, তা নিয়ে সংসদে আলোচনা করব। বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা গ্রহণ করে। যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চান, তাদের বলব–আপনাদের কোনো পরিকল্পনা থাকলে আমাদের জানান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আর পিছিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। আগামীতে আমাদের সকল কর্মসূচি এ দেশের জনগণকে নিয়েই হবে। এ সরকার জনগণের সরকার। আমাদের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে, শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হবে।’
বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ হবে, ইনশাআল্লাহ। চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে রাখা হয়েছে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আপনাদের লোক রয়েছে। এ অঞ্চলের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণও আমাদের মূল পরিকল্পনার একটি অংশ। এটিও নির্মাণ করা হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল ইসলাম হোসাইনী।
এ সময় এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. জাকারিয়াসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নতুন ঘর হস্তান্তর ও ত্রাণ বিতরণ করেন। স্বামীহারা এক নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতীকীভাবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।