
শিব্বির আহমদ রানা::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ি টেকপাড়া এলাকার ছেমটখালী খালের ওয়াফদার স্লুইস গেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় জোয়ারের পানি অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, বসতভিটা ও সড়ক প্লাবিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু ব্যক্তি মাছ ধরার স্বার্থে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত স্লুইস গেট সংস্কার ও খালের অপব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পশ্চিম পুঁইছড়ি টেকপাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছেমটখালী খালের ওয়াফদার স্লুইস গেটের দরজা দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে আছে। এ অবস্থায় জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি খালে ঢুকে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার আলী আকবর নামে এক ব্যক্তি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে খালে জাল বসিয়ে পানি প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করছেন। এতে আশপাশের জনবসতি, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক নিয়মিত জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে মো. মিনহাজ উদ্দিন রিয়াজ, মো. ফরিদ, মো. কাদের ও জাফরসহ কয়েকজন বলেন, স্লুইস গেটের দরজা নষ্ট থাকায় জোয়ারের পানি অবাধে প্রবেশ করছে। এর ফলে পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, মানুষের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার চার হাজারের বেশি মানুষ এ সমস্যার কারণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, টেকপাড়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ছেমটখালী খাল দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় খালটির স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত করে স্লুইস গেট দিয়ে অতিরিক্ত পানি প্রবেশ করিয়ে মাছ চাষ ও মাছ ধরার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
পশ্চিম পুঁইছড়ি ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এম এ কাশেম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার অবহিত করেছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্লুইস গেটের দরজা নষ্ট থাকায় সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।’
তিনি আরও বলেন, পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার আরবশাহ ঘোনা ফুটখালী খালের স্লুইস গেট এবং ছেমটখালী খালের ওয়াফদার স্লুইস গেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে আছে। ফলে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ইউনিয়নের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকার কয়েক হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বর্ষা মৌসুমে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় কৃষিকাজ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত দুটি স্লুইস গেট সংস্কারের দাবি জানান তিনি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁশখালী উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। স্লুইস গেটটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা, অবৈধভাবে জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্লুইস গেটগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
