
নিজস্ব সংবাদদাতা::: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। পূজাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও প্রতিমা তৈরির কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেছেন বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ওসি রবিউল হকের নেতৃত্বে বাঁশখালী পৌরসভার জলদি মহাজনঘাটা মা দুর্গা প্রতিমালয়, কেবল মহাজনপাড়া বিশ্বকর্মা প্রতিমালয়, কালীপুরের জঙ্গল কোকদণ্ডী পার্বতী প্রতিমালয়, দক্ষিণ সাধনপুর গণেশ প্রতিমালয় ও রুদ্রপাড়া মা দুর্গা প্রতিমালয়সহ কয়েকটি প্রতিমা তৈরির কারখানা পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিমা তৈরির কারখানাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ সময় কারখানাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত পাহারাদারের ব্যবস্থা এবং প্রতিমা নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিদর্শনে প্রতিমা কারিগর পিন্টু আচার্যের পরিচালিত একটি কারখানায় প্রতিমা তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাঝুঁকি দেখা যায়। কারখানাটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় দ্রুত ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেন ওসি। একই নির্দেশনা দেওয়া হয় বিজয় ধর পরিচালিত পার্বতী প্রতিমালয়ের কর্তৃপক্ষকেও।
পরিদর্শন শেষে ওসি মো. রবিউল হক বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিমা তৈরির কারখানা ও পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। প্রতিমা কারখানাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত পাহারাদারের ব্যবস্থা এবং প্রতিমা নিরাপদ স্থানে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাঁশখালী সম্প্রীতির জনপদ। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পরিদর্শনকালে বাঁশখালী পূঁজা উদযাপন পরিষদের সদ্য সাবেক সভাপতি প্রণব কুমার দাশ, বর্তমান সহ-সভাপতি ঝন্টু কুমার দাশ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাজু দাশ সাজিৎ, পূজা পরিষদের নেতা অজিত সরকার, অমিত চক্রবত্তী, সুবল দেব ও দপ্তর সম্পাদক অজয় সেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কারখানাগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন ও পুলিশ।