মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাতি বাঁচলে বন বাঁচবে, বন বাঁচলে বাঁচবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে: ড. জকরিয়া মোবাইলে চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাঁশখালীর এক তরুণের মৃত্যু বাঁশখালীতে ‘আমার গ্রাম’-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন ড. জকরিয়া ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে সরকার– ড. জকরিয়া বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি কামরুল ইসলাম হোসাইনী পুলিশ দেখে কাভার্ডভ্যান রেখে চালকের পলায়ন, মিলল ১০ হাজার ইয়াবা কালীপুরের মাদকের ডিলার খ্যাত জাহাঙ্গীরের কথিত মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল জনতা বাঁশখালীতে ১৫৮ কৃতি শিক্ষার্থীকে মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্টের সংবর্ধনা সবুজ ভুবন গড়ার প্রত্যয়ে বাঁশখালীতে ‘আমার গ্রাম’-এর উদ্যোগে ১ হাজার ১০০ বৃক্ষরোপণ

বাঁশখালীর সরল: দুই যুগের বসতি, হঠাৎ গাছ নিধন—উচ্ছেদের শঙ্কায় ভূমিহীন পরিবার

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ১৮৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় সরল ইউনিয়নে খাস জমিতে বসবাসরত এক ভূমিহীন দিনমজুরের রোপণ করা গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাকে বসতভিটা ছাড়ার হুমকি দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

ভুক্তভোগী মো. রৌশনুজ্জামান (৪৫) উপজেলার সরল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সরল এলাকার মৃত মনিরুজ্জামানের পুত্র। তিনি পেশায় দিনমজুর। স্ত্রীসহ তার পরিবারে তিন ছেলে ও দুই কন্যা রয়েছে। অভাবের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৪ বছর ধরে উত্তর সরলের জলকদর খাল সংলগ্ন সড়কের পাশে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছেন রৌশনুজ্জামান। খড়কুটো ও লবণ মাঠের তেরপাল দিয়ে তৈরি একটি ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। আর্থিক সংকটের কারণে ঘরের ছাউনি টিন বা ছন দিয়ে সংস্কার করতে পারেননি। এমনকি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় কোনো ঘরও পাননি এই পরিবার।

ভুক্তভোগীর দাবি, বসতঘরের পাশে তিনি রেইন্ট্রি (শিশু), নিম, কুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গাছ রোপণ করেছিলেন।

তার অভিযোগ, গত বুধবার দুপুরে পাশের কাথরিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হালিয়াপাড়া এলাকার কমর উদ্দিনের ছেলে মো. আরিফ একদল লোক নিয়ে এসে সন্ত্রাসী কায়দায় তার রোপিত গাছগুলো কেটে ফেলে এবং জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

রৌশনুজ্জামান বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে এখানে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছি। আমাকে সরাতে হলে সরকারই সরাবে। আমি ভূমিহীন মানুষ। ঘরের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে, অভাবের কারণে মেরামতও করতে পারিনি। স্ত্রী-সন্তানসহ সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে এখানে থাকি। আমি কি এ অন্যায়ের বিচার পাব?’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. আরিফ। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘আমাদের খতিয়ানভুক্ত জায়গার সামনেই সরকারি খাস জমি রয়েছে। তাদের আমার বাবা সাময়িকভাবে থাকতে দিয়েছিলেন। গাছ আমি কাটিনি। তারা নিজেরাই গাছ কেটে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষকে থানায় বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছে। আমি কাউকে হুমকি দিইনি।’

সরল ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার সামশুল আলম বলেন, ‘রৌশনুজ্জামান একজন অসহায় ভূমিহীন ব্যক্তি। তিনি দিনমজুর হিসেবে কৃষিকাজ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছেন।’ স্থানীয় বাসিন্দারাও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আলমগীর জানান, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত। রৌশনুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে খাস জমিতে বসবাস করছেন। যে গাছগুলো কাটা হয়েছে, সেগুলোও খাস জমির মধ্যেই ছিল।’

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews