মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাঁশখালীতে ৫৭৪ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার হাতি বাঁচলে বন বাঁচবে, বন বাঁচলে বাঁচবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে: ড. জকরিয়া মোবাইলে চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাঁশখালীর এক তরুণের মৃত্যু বাঁশখালীতে ‘আমার গ্রাম’-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন ড. জকরিয়া ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে সরকার– ড. জকরিয়া বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি কামরুল ইসলাম হোসাইনী পুলিশ দেখে কাভার্ডভ্যান রেখে চালকের পলায়ন, মিলল ১০ হাজার ইয়াবা কালীপুরের মাদকের ডিলার খ্যাত জাহাঙ্গীরের কথিত মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল জনতা বাঁশখালীতে ১৫৮ কৃতি শিক্ষার্থীকে মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্টের সংবর্ধনা

বাঁশখালী হাসপাতালে ডেলিভারি, আইসিইউ’তে নবজাতকের মৃত্যু: চিকিৎসায় অবহেলা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষুব্ধ পরিবার

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ২০৭ বার পড়া হয়েছে

সংলাপ প্রতিবেদন: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (বাঁশখালী হাসপাতাল) চিকিৎসায় অবহেলা ও হাসপাতাল কর্মীদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে এক নবজাতকের মৃত্যুকে ঘিরে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালের সার্বিক সেবাদানের মান ও দায়িত্বশীলতার ওপর।

জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পূর্ব বড়ঘোনা গ্রামের গৃহবধূ জান্নাতুন নাইমা (২১) ডেলিভারিজনিত জটিলতা নিয়ে বাঁশখালী হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের অভিযোগ, রোগীর ব্যথা ও সংকট বারবার বাড়লেও কর্তব্যরত নার্স ও কর্মীরা “সব কিছু ঠিক আছে” বলে আশ্বস্ত করে সময়ক্ষেপণ করে।

সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে সন্তান প্রসবের পর দেখা যায়, নবজাতকটি নিস্তেজ, নড়াচড়া নেই এবং কান্নাও করছে না। প্রায় ১৫ মিনিট পর শিশুর শরীরে খিচুনির মতো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলেও নার্সরা সেটিকে ‘কান্না’ বলে উড়িয়ে দেন। এরপর তড়িঘড়ি করে শিশুটিকে চট্টগ্রাম শহরের একটি হাসপাতালে রেফার করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, জন্মের সময় নবজাতকের মাথায় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগে তার মস্তিষ্কের টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিশুটি প্রায় ৩০ ঘণ্টা আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে মৃত্যুবরণ করে।

রোগীর পরিবারের অভিযোগ, সন্তান প্রসবের সময় নার্সদের আচরণ ছিল অমানবিক ও অপ্রশিক্ষিতের মতো। রোগীর দেবর সাহাদাত হোসাইন বলেন, “আমরা বারবার জিজ্ঞেস করলেও নার্সরা বিরক্ত হয়ে তুচ্ছভাষায় উত্তর দিত। শিশুর মাথা বের করতে পারছিল না, পরে পেট চেপে টেনে বের করে। তারপর বলে শহরে নিয়ে যান! এটা কী চিকিৎসা?”

রোগীর মা বেবি আক্তার ও শাশুড়ি তৈয়বা খাতুনও নার্সদের খারাপ ব্যবহার ও দায়িত্বহীন আচরণের অভিযোগ তোলেন।

এ ঘটনায় বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানলাম। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার দায়ী চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একইসাথে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও স্টাফদের আচরণগত প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ করেছে তারা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews