
শিব্বির আহমদ রানা::: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ১১২টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ চলে।
ভোটগ্রহণ শেষে রাতে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম।
প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে এগারো দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭১ ভোট।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৮ ভোট। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল মালেক চেয়ার প্রতীকে পেয়েছেন ৮১১ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আরিফুল হক ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ২৪১ ভোট এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী এহছানুল হক হারিকেন প্রতীকে পেয়েছেন ১০৪ ভোট।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৫৮টি, যার মধ্যে বৈধ ভোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৪০২টি এবং বাতিল ভোট ৪ হাজার ৫৫৬টি। ভোট প্রদানের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বলেন, ‘ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের কোনো অনিয়ম বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।’
নির্বাচনে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে দায়িত্ব পালন করে ৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাব, পুলিশসহ আট শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, আনসার ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে পুরো নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, দীর্ঘদিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসাও করেন তারা।