
নিজস্ব প্রতিবেদক::: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ও রিজার্ভ ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশের পর যোগ্য ও আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক আবেদনকারী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযোগকারীদের দাবি, তালিকায় দলীয় পরিচয় ও সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্য থেকেই অধিকাংশকে বাছাই করা হয়েছে। এমন অভিযোগও রয়েছে, পরীক্ষার নামে যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ডেকে পরে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার শতাধিক আবেদনকারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের প্রশ্ন, নিয়োগ যদি ব্যক্তিবিশেষের সুপারিশ বা বিবেচনার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে কেন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সাধারণ প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হলো এবং তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলো?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোখতার হোসেন সিকদার নামে এক শ্রমিক নেতা লিখেছেন, ‘বাঁশখালীতে সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের তদন্ত হতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় সর্বাধিক নম্বরপ্রাপ্তদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, গোপনে সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে সাধারণ ও যোগ্য প্রার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। প্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যেকোনো ধরনের সুপারিশ বা তদবির সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
তাদের আরও অভিযোগ, তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে–লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা কিছু প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বিপরীতে যোগ্যতা ও পরীক্ষার ফলাফলে এগিয়ে থাকা অনেক আবেদনকারী তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপে সার্টিফিকেট যাচাই-বাছাইয়ের সময় থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিতকরণ বাছাই পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ও রিজার্ভদের প্রকাশিত তালিকায় ১৯ জন সুপারভাইজার এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলিয়ে ১৮৩ জন তথ্য সংগ্রহকারীর নাম রয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী, গন্ডামারা ইউনিয়নে ১২ জন, শেখেরখীলে ১০, কাথরিয়ায় ১০, শীলকূপে ১০, পুঁইছড়িতে ১২, সরলে ১৩, চাম্বলে ১২, ছনুয়ায় ১২, খানখানাবাদে ১২, পুকুরিয়ায় ১২, বাঁশখালী পৌরসভায় ২১, সাধনপুরে ১১, বৈলছড়িতে ১০, বাহারছড়ায় ১২ এবং কালীপুরে ১৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী বাছাই করা হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঁশখালী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফোনে ‘এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়’–এমন বার্তা শোনা যায়। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রকাশিত তালিকা পুনর্বিবেচনা, পরীক্ষার ফলাফল ও নম্বর প্রকাশ এবং প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।