
নিজস্ব প্রতিবেদক::: সকাল সাড়ে ৭টা থেকে যথারীতি শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। শুরু থেকেই বাঁশখালী উপজেলায় ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, বিশেষ করে নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
উপজেলার শীলকূপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনকিচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাঁশখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়—পুরুষ ভোটারদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক নারী ভোটার সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। অনেক কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।
কিছু কেন্দ্রে নারী ভোটার বুথে ভোটগ্রহণ তুলনামূলক ধীরগতিতে চললেও, দীর্ঘ লাইনে রোদের তাপ উপেক্ষা করে ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে নারী ভোটারদের। দীর্ঘ সতেরো বছর পর এমন স্বতঃস্ফূর্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বাঁশখালীতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক সমন্বয়ের জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে “মিত্র” নামের একটি মনিটরিং অ্যাপ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামশেদুল আলমের তত্ত্বাবধানে অ্যাপটির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠানো হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পাঁচ শতাধিক সেনাসদস্যের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে ১৩ জন করে আনসার ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় একজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য নিয়োজিত আছেন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
এদিকে বাঁশখালী আসনে সাতজন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তাঁরা হলেন—বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (ফুটবল), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী আবদুল মালেক আশরাফী (চেয়ার), গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী আরিফুল হক তায়েফ (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ প্রার্থী এহছানুল হক (হারিকেন)।
সব মিলিয়ে নারী ভোটারদের ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে বাঁশখালীর ভোটগ্রহণ পরিণত হয়েছে এক উৎসবমুখর ও ইতিবাচক গণতান্ত্রিক চর্চার দিনে।