
শিব্বির আহমদ রানা::: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। মোট ১১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ৫৬টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোকে সাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত সমন্বয়ের জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে “মিত্র” নামে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামশেদুল আলমের তত্ত্বাবধানে অ্যাপটির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পাঁচ শতাধিক সেনাসদস্য, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি ১৩ জন করে আনসার ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় একজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্যও দায়িত্বে থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
বাঁশখালী আসনে সাত প্রার্থীর লড়াই: বাঁশখালী আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন–বিএনপির প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (ফুটবল), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী আবদুল মালেক আশরাফী (চেয়ার), গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী আরিফুল হক তায়েফ (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার (হাতপাখা), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ প্রার্থী এহছানুল হক (হারিকেন)।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন।
বাঁশখালী আসনে অতীত নির্বাচনের প্রেক্ষাপট: বিগত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে পাঁচবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী জয় পান এবং বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে যায়।
বর্তমান নির্বাচনে জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছোট ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম দলীয় সমর্থন নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলীও নিজস্ব কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণায় সক্রিয়। এই আসনে তিনজনই হেভিওয়েট প্রার্থীর বিবেচনায় রয়েছেন
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।’
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।