
বাঁশখালী সংলাপ::: লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ ও বিদেশি লবণ আমদানি বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন লবণ শ্রমিক ও চাষিরা। বাঁশখালী উপজেলা লবণ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের উদ্যোগে রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রধান সড়কসংলগ্ন উপজেলা পরিষদের সামনে ‘সাদা সোনা’ খ্যাত দেশীয় লবণ শিল্প রক্ষায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে শতাধিক লবণ শ্রমিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনার কারণে লবণ শ্রমিক ও চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও বাজারে লবণের দাম বাড়ছে না। এতে লবণ শিল্প সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও চাষিরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বক্তারা দ্রুত বিদেশি লবণ আমদানি বন্ধ করে দেশীয় লবণ শিল্প রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে শিল্প উপদেষ্টা বরাবর ১০ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উপকূলীয় চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলে লবণ শিল্প দীর্ঘদিন ধরে লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। অথচ ন্যায্যমূল্যের অভাব, অবৈধ আমদানি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে এই শিল্প আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিদেশি লবণ আমদানি বন্ধ, সরকারিভাবে ভর্তুকি দিয়ে সরাসরি লবণ ক্রয়, বর্ষা মৌসুমে শ্রমিকদের জন্য অবসর ভাতা চালু, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় লবণের মূল্য নির্ধারণ, ডিজিটাল মিটারের মাধ্যমে সঠিক পরিমাপ নিশ্চিতকরণ, সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ প্রদান, লবণ বোর্ড গঠন, বাঁশখালীতে সরকারি লবণ শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং সকল লবণ চাষিকে সরকারিভাবে তালিকাভুক্তকরণ।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা লবণ শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, লবণ শিল্প রক্ষা করা না গেলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
লবণ শ্রমিক বজল আহমদের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচি পরিচালনা করেন মোহাম্মদ হোছাইন। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমদ, উপদেষ্টা জি. এম. সাইফুল ইসলাম, পৌরসভা সভাপতি হাফেজ সিদ্দিক আহমদ, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী এমরানুল হক, কোষাধ্যক্ষ হেলাল উদ্দীন, প্রচার সম্পাদক রেজাউল করিম, লবণ শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা আলী এবং শ্রমিক নেতা ফরিদ আহমদ।