
নিজস্ব সংবাদদাতা:::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের সন্তান, হাফেজে কোরআন ও চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মোস্তফা (৩৭) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত আনুমানিক ১১টায় চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে কিছুদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ডা. আব্দুল মোস্তফা ১৯৮৯ সালে বাঁশখালীর ৯ নম্বর গন্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকার বাচা মিয়ার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৃত আছত আলী ও মাতা রাবিয়া খাতুন। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ।
পেশাগত জীবনে তিনি এমবিবিএস ও এমপিএইচ ডিগ্রিধারী ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে পিজিটি (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামের ইউএসটিসি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন অধ্যবসায়ী ও পরিশ্রমী। একাধারে হাফেজে কোরআন ও চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।বিভিন্ন স্বনামধন্য মসজিদে তারাবির নামাজে ইমামতি করেছেন। পাশাপাশি একজন মানবিক ও পরোপকারী চিকিৎসক হিসেবে বাঁশখালীর বিভিন্ন হাসপাতাল এবং নিজ এলাকা গন্ডামারায় আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দিয়েছেন।সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি খুলশী থানা ছাত্রসেনার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ২০১৭ সালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার এক পরিবারের কন্যাকে বিয়ে করেন। তাঁদের কোনো সন্তান নেই।
ডা. আব্দুল মোস্তফার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, চিকিৎসক সমাজ ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শোক প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর পশ্চিম বড়ঘোনা রহমানিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামায শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ডা. আব্দুল মোস্তফা ছিলেন একজন বিনয়ী, সেবাপরায়ণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। চিকিৎসা সেবা, ধর্মীয় অনুশীলন এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যু এলাকায় এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।