
বাঁশখালী সংলাপ::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাহারঘোনা গণিবলির পাড়া ও বড়ুয়া পাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে সরল ইউনিয়নের গণিবলিপাড়া জামে মসজিদ মাঠে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় দেড় সহস্রাধিক লোকজনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৪ মে হঠাৎ করে ওই দুই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী দুই দিনেও সংযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় সুপেয় পানির সংকট, তীব্র গরমে দুর্ভোগ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্নসহ জনজীবনে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।
তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে টাকার বিনিময়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তারের স্বামী মাহফুজুর রহমানের কাছে পাঁচ হাজার টাকা জামানত হিসেবে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে পরবর্তীতে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ কয়েকজন বাসিন্দা বাঁশখালী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে গিয়ে দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, এ সময় উপকেন্দ্রে দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যাতে কয়েকজন আহত হন। তারা দাবি করেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্মরক্ষার চেষ্টায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরও এলাকার নয়জন বাসিন্দার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তাদের দাবি, মামলায় অভিযুক্ত অধিকাংশ ব্যক্তি নির্দোষ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের হয়রানির জন্য এ মামলা করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার আগের দিন থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। বিচ্ছিন্ন লাইন মেরামত ও সংযোগ পুনঃস্থাপনে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছিল। কাহারঘোনা ও বলিপাড়া এলাকাতেও কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু ২৭ মে রাতে একদল লোক বাঁশখালী-১ (জলদী) বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে প্রবেশ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে একজন লাইনম্যান গুরুতর আহত হয়ে মাথায় তিনটি সেলাই নেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে না পৌঁছালে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। সরকারি স্থাপনায় হামলা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়নি।’
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম (ওএন্ডএম) ডালিম কুমার মজুমদার বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ মে রাতে বাঁশখালী-১ (জলদী) বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে সংঘটিত ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধাদান এবং উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা হয়। এতে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিরা অভিযোগ অস্বীকার করে একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা বলে দাবি করেছেন।