1. news@banshkhalisanglap.com : বাঁশখালী সংলাপ : বাঁশখালী সংলাপ
  2. info@www.banshkhalisanglap.com : বাঁশখালী সংলাপ :
রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে বিভ্রান্তি: সরল ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যানের প্রতিবাদ মাদক ও অনলাইন জুয়ার থাবা: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে যুবসমাজ বৈলছড়িতে অসহায় এতিম পরিবারের পাশে ‘মানবতার কল্যাণে আমরা’ সরকারি দর উপেক্ষা, বাঁশখালীতে এলপিজি বিক্রিতে ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা বাঁশখালীতে কাসপের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাদক প্রতিরোধে সামাজিক ঐক্যের আহ্বান শিক্ষার মানোন্নয়নে মায়েদের সম্পৃক্ততা জরুরি: পূর্ব পুইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে মা সমাবেশে বক্তারা মাদক সেবন দেখে ফেলায় শিশুকে বিষপান করিয়ে হত্যাচেষ্টা: বাঁশখালীতে যুবক গ্রেপ্তার কাছ থেকে দেখা জাপানের আইকনিক আগ্নেয়গিরি ‘মাউন্ট ফুজি’ বাঁশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা বাঁশখালী পৌরসভায় অভিযান: নারীসহ দুই মাদক কারবারি আটক

দেশের ক্রান্তিকালে হালধরা ডক্টর ইউনূসের সম্মানজনক বিদায়

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে কিছু সময় থাকে, যখন দায়িত্ব নেওয়াটাই হয়ে ওঠে সাহসিকতার নাম। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঠিক তেমনই এক কঠিন সময়ে দেশের হাল ধরেছিলেন। রাজনৈতিক অচলাবস্থা, সহিংসতা, প্রশাসনিক ভাঙন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক আস্থার সংকট—সব মিলিয়ে রাষ্ট্র তখন কার্যত এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে, যাকে বলে তলাবিহীন একটা ঝুড়ি। সেই অস্থির সময়েই তিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যখন দেশ পরিচালনার চেয়ে দেশকে স্থিতিশীল করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ড. ইউনূস কোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার পরিকল্পনা নিয়ে দায়িত্ব নেননি। শুরু থেকেই তাঁর লক্ষ্য ছিল একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও সংঘাতমুক্ত নির্বাচনের পথ তৈরি করা। দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ ছিল রাজনৈতিক বিভাজনে ক্ষতবিক্ষত, রাজপথে অনাস্থা ও সংঘাত ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। সেই অবস্থায় প্রথম কাজ ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা, প্রশাসনে আস্থা পুনর্গঠন এবং নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা।
এই সময়কালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দাবি-দাওয়া, আন্দোলন ও প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে। অনেক সময় ঢাকা পরিণত হয়েছে ‘দাবির শহরে’। এসব পরিস্থিতিতে শক্ত হাতে দমন নয়, বরং সহনশীলতা ও সংলাপের পথ বেছে নেওয়াই ছিল তাঁর নীতি। এর ফলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কটূক্তি, গালিগালাজ ও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবু বাক্‌স্বাধীনতা সংকুচিত না করে তিনি একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। এই সহনশীলতাই পরবর্তীতে রাজনৈতিক উত্তরণকে সহজ করেছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি দায়িত্ব নেন এক বিপর্যস্ত বাস্তবতায়। মুদ্রাস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়—সবকিছু মিলিয়ে অর্থনীতি ছিল চাপে। এই অবস্থায় তিনি কোনো অলৌকিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেননি। বরং সীমিত সময়ের মধ্যে অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতার পথে ফেরানো, আন্তর্জাতিক আস্থার সংকট কমানো এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য।

একটি “তলাবিহীন ঝুড়ি” হিসেবে পরিচিত বাস্তবতাকে তিনি নতুন করে প্রাণশক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন—যা দীর্ঘমেয়াদে ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
কূটনৈতিক অঙ্গনেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তখন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। একজন বিশ্বপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা সেই সংকটে বড় ভূমিকা রাখে। তিনি সংঘাতের ভাষা নয়, যুক্তি ও সংলাপের মাধ্যমে বিশ্বকে বাংলাদেশের বাস্তবতা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। এর ফলে দেশ আবারও আন্তর্জাতিক পরিসরে কথা বলার জায়গা ফিরে পেতে শুরু করে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো—তিনি কত সময়ের মধ্যে কী লক্ষ্য পূরণ করে বিদায় নিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের কিছু মাসের মধ্যেই তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হন। প্রশাসনিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার পর তিনি একটি তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ, সংঘাতহীন ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করেন। বহু আশঙ্কা ও শঙ্কার বিপরীতে বড় ধরনের রক্তপাত বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াই ছিল তাঁর নেতৃত্বের বড় সাফল্য।
নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার কোনো চেষ্টা করেননি। বরং দায়িত্ব শেষ করে নিরবে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই বিদায় ছিল পরিকল্পিত, প্রজ্ঞাপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের উজ্জ্বল উদাহরণ। আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতায়, যেখানে ক্ষমতা ছাড়তে অনীহা প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে, সেখানে তাঁর এই প্রস্থান এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।
একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ হয়েও ড. ইউনূসের মধ্যে জাতি দেখেছে তারুণ্যের দৃঢ়তা—যা বয়সের নয়, মননের। সীমাবদ্ধতা, চাপ ও সমালোচনার মধ্যেও তিনি শান্ত থেকেছেন, লক্ষ্যচ্যুত হননি। তিনি নিজেকে অপরিহার্য প্রমাণ করতে চাননি; বরং প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।
এই বিদায় তাই কেবল একজন প্রধান উপদেষ্টার বিদায় নয়; এটি একটি মূল্যবোধের ঘোষণা। নতুন প্রজন্মের জন্য এটি এক স্পষ্ট শিক্ষা—নেতৃত্ব মানে ক্ষমতায় দীর্ঘদিন থাকা নয়, বরং সংকটকালে দায়িত্ব নেওয়া এবং সময়মতো দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া। যখন একজন মানুষের প্রস্থানও জাতিকে অনুপ্রাণিত করে, তখন সেই প্রস্থান ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেখিয়ে গেছেন—রাষ্ট্র গড়তে শুধু আসনে বসতে হয় না, আবার রাষ্ট্রকে সম্মান দিতে জানতে হয় আসন ছাড়তেও। দেশের ক্রান্তিলগ্নে হাল ধরে, অল্প সময়ের মধ্যে সংঘাতমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করে তাঁর যে সম্মানজনক বিদায়, তা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য এক নীরব অথচ শক্তিশালী পাঠশালা হয়ে থাকবে।

লেখক-
শিব্বির আহমেদ রানা
গণমাধ্যমকর্মী ও কলাম লেখক
(বাঁশখালী, চট্টগ্রাম)
ই-মেইল: shibbirahmedctg1990@gmail.com

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট