শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন দুর্গোৎসব উদযাপনে শীলকূপের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শীলকূপ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন বাঁশখালীতে পারিবারিক কলহে বিদ্যুতের খুঁটিতে যুবক, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় উদ্ধার বাঁশখালীতে সাত্ত্বিক পূজা নির্বাচন কমিটি গঠন বায়তুল ইরফান আদর্শ মাদরাসায় বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নৈতিক চরিত্র গঠনে আলোচনা সভা সাত দিন পর দেশে ফিরল বিমানে মারা যাওয়া বাঁশখালীর প্রবাসী জসিমের মরদেহ বাঁশখালীর ৮৮ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগ, পুলিশের মতবিনিময় সভা শীলকূপ ইউনিয়নে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে চেয়ারম্যান রাশেদ নূরীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মা ইলিশ রক্ষায় বাঁশখালীতে নৈশ অভিযান: ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা বাঁশখালীতে ১৫ বছর ধরে দখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার

রাজনৈতিক অসচেতনতা; বিশ্বরাজনীতিতে কেন আমরা পিছিয়ে!

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৩০ বার পড়া হয়েছে

রাজনৈতিক সচেতনতা; তার মানে এই নয় যে শুধু রাজনীতি জানা। মূলত রাষ্টের সংবিধান, অধিকার-দায়িত্ব, নিবাচন ও বাজেট পলিসি কীভাবে হয়? গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কি কাজ করে এসব বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান আর দক্ষতা অর্জনই মূলতই রাজনৈতিক সচেতনতা। রাজনৈতিক সচেতনতা খুবই দরকারি আর প্রয়োজনীয়। কেননা আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক এমনকি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে এটি প্রভাব ফেলে।

রাজনীতি শব্দটি গ্রিক পলিস(polis) থেকে এসেছে। যার অর্থ নগর রাষ্ট্র। প্রাচীন গ্রীসে পলিস ছিলো একটি স্বশাসিত রাজনৈতিক প্লাটফর্ম। এটি নিয়ে গবেষণা করা, অনুশীলন করা আর আলোচনার মধ্য দিয়েই এই রাজনীতি শব্দটি বিকশিত হতে থাকে। এভাবে সময়ের পালাবদলে রাজনীতি বর্তমান সময়ের প্রায় প্রত্যেকটা দেশেই চর্চা হিসাবে দেখেছেন। তবে একেক দেশের রাজনৈতিক চর্চা, গঠন প্রণালী, রাজনৈতিক পলিসি একেক ধরনের। কিছু কিছু দেশে রাজনীতি ভিন্ন আবার কিছু কিছু দেশে রাজনৈতিক নানা রীতিনীতিতে অনেক মিল পাওয়া যায়।

দেশের প্রত্যেকটা নাগরিকের যেমন রাজনীতি করার অধিকার আছে তেমনি ভাবে রাজনৈতিক সচেতনতাও খুব বেশি জরুরি। রাজনৈতিক সচেতনতা না থাকলে একজন নাগরিক কখনো পরিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার অধিকার রাখে না। যেখানে রাজনৈতিক সচেতনতা জানা থাকবে না সেখানে রাজনৈতিক চর্চাটা হবে কেবল ভোগ-বিলাস নতুবা অপরাজনীতির চর্চা। এটা রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর ত নয়ই বরং ব্যক্তিগত উন্নয়ন আর সামাজিক ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকির শামিল।

রাজনৈতিক সচেতনতা না থাকলে দিনকে দিন দেশে অপরাজনীতির চর্চা হবে। ফলে সামাজিক ভাবে এর বিরুপ প্রভাব পড়বে। মূলত রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টিতে আমাদের অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সেক্ষেত্রে মূখ্য কিছু বিষয়কে আমাদের গুরুত্বের সহিত দেখতে হবে। যে সমস্ত বিষয়গুলোকে আমরা রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে বলে মনে করি তার মধ্যে অধিকার রক্ষা, ভোট প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দুর্নীতি ও অন্যায় প্রতিরোধ, সমাজ ও দেশের উন্নয়ন, প্রজন্মের ভবিষ্যত সুরক্ষা, দেশের বাজেট পলিসি সম্পর্কে যথাযথ ধারণাই একজন নাগরিককে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে বলে মনে করি।

অথচ আমাদের রাজনৈতিক সচেতনতা না থাকার কারণে আমরা বিশ্ব রাজনীতিতে অনেক পিছিয়ে। আমাদের রাজনৈতিক চর্চা ঠিকই হয় কিন্তু তা তুলনামূলকভাবে কম। যা হয় তা অনেকক্ষেত্রে অপরাজনীতির চর্চার মতোই। ফলে আমরা বিশ্ব দরবারে নিজেদের নেতৃত্ববান হিসাবে উপস্থাপন করতে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। এই রাজনৈতিক সচেতনতার অভাবে আমরা দেশের উন্নয়নের চেয়ে নিজেদের ভোগবিলাসী জীবন যাপন করতে বেশি আগ্রহী হই।

অন্যান্য দেশে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সারাবিশ্ব শাসনের দক্ষতা আর নেতৃত্বের জন্য নিজেদের সর্বদা তৈরিতে ব্যস্থ থাকে সেই জায়গায় আমরা দেশের ক্ষমতার চেয়ারে বসে নানা দুর্নীতি আর অনৈতিক কর্মকান্ডে নিজেদের ভোগবিলাসী আর আরাম আয়াসের জীবন গড়তে গড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি।

বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ, দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকারকে ঘিরে আবর্তিত হয়ে থাকলেও তার বিপরীতে বৈদেশিক রাজনীতি প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ও চ্যালেঞ্জিং। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বা “বৈদেশিক রাজনীতি” আসলে রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র সম্পর্ক, বহুপাক্ষিক জোট, ভূরাজনীতি, এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। যার প্রেক্ষিতে তারা পুরো দেশকেই বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোবলের সক্ষমতা সম্পন্ন করে তোলে। যেটি দেশকে বিশ্বদরবারে প্রেজেন্টেশন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অনুশীলন বা চর্চা।

পাশাপাশি বাংলাদেশ বিশ্বরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে থাকলেও (দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্র, বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত প্রবেশদ্বার, ভারত–চীন–মিয়ানমারের সন্নিকটে), বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাবশালী শক্তি হয়ে উঠতে পারেনি। এর পিছনে কিছু ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ আছে। কারনগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সামরিক শক্তির দুর্বলতা, কূটনৈতিক ও ভৌগোলিক ভারসাম্য নীতি,
প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক প্রভাব কম, আঞ্চলিক কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা, কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব উল্লেখযোগ্য।

তাই দেশকে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করার জন্য আমাদের অবশ্যই রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজনৈতিক সচেতনতা দরকার হবে। রাজনৈতিক সচেতনতা না থাকলে একজন নাগরিক বা ব্যক্তি কখনো পরিপূর্ণ নেতৃত্বদানকারীর সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনা। ফলে তিনি না সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পাবে, না রাষ্ট্রীয়ভাবে। তাই আমাদের রাজনৈতিক সচেতনতা সম্পন্ন একজন নাগরিক হতে হবে যেন দেশকে ছাড়িয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে অবদান রেখে দেশকে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করা যায়।

লিখেছেনঃ তৌহিদ-উল বারী
শিক্ষার্থী: পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews