
বাঁশখালী ক্রাইম ডেস্ক:: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের পূর্ব কোকদন্ডী এলাকার ব্যবসায়ী নুর আহমদ প্রকাশ দৌলত খান (৫৭) এর মরদেহ দাফনের ১৮ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানী আকনের উপস্থিতিতে পুলিশ মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর রাতে রামদাশ মুন্সি হাটে নিজ দোকানঘরে নুর আহমদ মারা যান। পরিবারের সদস্যরা প্রাথমিকভাবে এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে তাকে দাফন করেন। তবে পরে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় এবং দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ মান্নান (৩০) মৃত্যুর পর থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপনে চলে গেলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
এমন পরিস্থিতিতে গত ৮ অক্টোবর নিহতের মেয়ে মর্জিনা আক্তার বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেন। মামলায় দোকানের কর্মচারী মো. মান্নানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়ে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশে রামদাশ হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ তপন কুমার বাগচীকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বাদী মর্জিনা আক্তার এজাহারে উল্লেখ করেন, প্রায় দুই মাস আগে সাতকানিয়ার ছদাহা এলাকার আবদুল নবীর ছেলে মোহাম্মদ মান্নানকে দোকানে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দোকানে মাইক, সাউন্ড সিস্টেম ও লাইটিং ভাড়ার ব্যবসা চলত। দুর্গাপূজা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় হয়েছিল এবং পরিবারের ১ ভরি স্বর্ণও দোকানে রাখা ছিল। এসব টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার পিতাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা তপন কুমার বাগচী বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পুনরায় দাফন করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে, রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।