
নিজস্ব প্রতিবেদক::: বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের পশ্চিম শীলকূপের ছিবাখাল–সংলগ্ন কাঁচামাটির সড়কটি এত দিন ছিল স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা। বর্ষা এলেই কাঁদামাটির কারণে চলাচল হয়ে উঠত দুঃসহ। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর সেই সড়কে ইট বসতে দেখে স্বস্তি ফিরেছে গ্রামবাসীর মুখে। কথা হচ্ছে ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ ‘মাওলানা সলিম উদ্দিন’ সড়কের।
প্রায় ২ হাজার ২৭৫ মিটার দীর্ঘ এ সড়কটি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছিবাখাল–সংলগ্ন পেলে হাজীপাড়া থেকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোদারপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। বৃহত্তর চট্টগ্রাম গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প–৩–এর আওতায় চলতি ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে ডাবল ব্রিক সলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। রি-টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তা মাহাবুব বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে শীলকূপ ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মহসিন সড়কটির বরাদ্দের জন্য প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) কাছে আবেদন করেন। ২০২১–২০২২ অর্থবছরে টেন্ডার আহ্বান করা হলেও বর্ষা ও স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক নির্দেশনার কারণে কাজ শুরু ও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে আংশিক কাজ এগোলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা স্থগিত থাকে। সর্বশেষ চলতি অর্থবছরে পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সাংসদ অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের নির্দেশে তাঁর প্রতিনিধি দল সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। তারা কাজের মানে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রকল্প পুনরায় শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
শীলকূপের দক্ষিণ–পশ্চিম প্রান্তের এই সড়কটি দীর্ঘদিন কাঁচা থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী ও বয়স্কদের চলাচলে ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের। বর্ষাকালে অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারত না বলে জানান বাসিন্দারা। তারা আশা করছেন, আগামী বর্ষার আগেই কাজ সম্পন্ন হলে বহু বছরের দুর্ভোগের অবসান হবে।
উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম উপজেলার বিভিন্ন স্থগিত উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নির্দেশ দিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর কাজেও গতি এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।