
২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা, ভোটাধিকার এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীকী ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির কার্যকর অংশগ্রহণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। একের পর এক বিতর্কিত নির্বাচন, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবন এবং দেশে ফেরার ঘটনা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
প্রবাসে থেকেও তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেননি। বরং তিনি নিয়মিতভাবে গণতন্ত্র, নিরপেক্ষ নির্বাচন, সাংবিধানিক অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতার প্রশ্নে বক্তব্য রেখে গেছেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবির সঙ্গে সম্পৃক্ত, যা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছাত্রসমাজ ও তরুণদের ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন তরুণ সমাজের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সচেতনতা ও সক্রিয়তা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভোটাধিকার, কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া কৃষক, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মতো কাঠামোগত ইস্যুগুলো আবারও জাতীয় আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা অপরিহার্য—এই বাস্তবতা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
অতএব, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে শুধু ব্যক্তি বা দলীয় আবেগের জায়গা থেকে দেখলে চলবে না। এটি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনর্গঠনের একটি সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক মুহূর্ত। এই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে বিভেদ, প্রতিহিংসা ও সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলাই আজ সময়ের দাবি।
গণতন্ত্র কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, তবে ইতিহাস বলে- সঠিক সময়ে সঠিক নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক রূপান্তরের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সেই সম্ভাবনারই একটি নতুন অধ্যায়।
মো. আবদুস সবুর
যুগ্ম আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল