
বাঁশখালী সংলাপ::: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও অভিবাসনকে একটি কার্যকর অভিযোজন কৌশল হিসেবে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বাঁশখালীতে পদ্ধতিগত অংশগ্রহণমূলক ‘ফোরসাইট’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার এবং ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস -এর সহযোগিতায় ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালা বাঁশখালী উপজেলা অফিসার্স ক্লাব হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাটি আয়োজন করে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।
কর্মশালা পরিচালনা করেন রামরু’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মাহমুদুল হাসান রকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক তাসনীম চৌধুরী ফাহিম, রামরু’র স্ট্যাটিস্টিশিয়ান উসরীয়া আউয়াল উসরী এবং রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট স্নেহা সালসাবিল।
কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন বাঁশখালী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শওকতুজ্জামান, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এনামুল করিম, খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, বাঁশখালী প্রেস ক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক শিব্বির আহমদ রানাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ইপসার কর্মী এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন অংশীজন।
কর্মশালায় জলবায়ু ঝুঁকি, জীবিকায় এর প্রভাব, অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত অভিবাসনের ধরণ এবং ভবিষ্যৎ নীতিপথ নির্ধারণে ‘ফোরসাইট’ পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রামরু’র একজন জ্যেষ্ঠ গবেষক বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অভিবাসনকে শুধু সংকট হিসেবে নয়, বরং অভিযোজনের একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখার সময় এসেছে। অংশগ্রহণমূলক ফোরসাইট পদ্ধতি আমাদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ও সুযোগ চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।’
দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় গ্রুপ ওয়ার্ক, দৃশ্যপট বিশ্লেষণ, ঝুঁকি ও সুযোগ চিহ্নিতকরণ এবং নীতিগত সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অভিবাসনকে অভিযোজন কৌশল হিসেবে আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে ভবিষ্যতে গবেষণা ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।