
নিজস্ব প্রতিবেদক::: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মাছবাহী পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাহাদুর আলম (২৮) ও মো. নোমান (৩৫) নামে দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকাল ৭টার দিকে বাঁশখালী প্রধান সড়কের মনছুরিয়া বাজারের উত্তর পাশে গরুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বাহাদুর আলম কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের জাহিদাঘোনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
অপর নিহত মো. নোমান মহেশখালী এলাকার আবুল বশরের ছেলে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম নেওয়া হচ্ছিল। পথে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মাতারবাড়ী এলাকার মোজাম্মেল হকের মেয়ে মনি বেগম (২৪) এবং চকরিয়ার বদরখালী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. হেলাল (২২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে চট্টগ্রাম থেকে পেকুয়ার দিকে যাওয়া একটি মাছবাহী ডাটা পিকআপের সঙ্গে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাহাদুর আলম নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। দুর্ঘটনায় সিএনজি চালকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পিকআপের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন।দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আছরার উল্লাহ নুরী জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত নোমানের ডান হাত ও ডান পায়ে গুরুতর আঘাত ছিল এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
নোমানের খালাতো ভাই ডা. রাশেদ জানান, গুরুতর আহত নোমানকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে মৃত্যু হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছু সময় আগেই তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপ ও সিএনজি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ব্যস্ত এ সড়কে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ব্যবস্থার উন্নয়নেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ছবি: সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাহাদুর আলম (২৮) ও মো. নোমান (৩৫)।